পুলিশ পরিচয়ে মহিষবাহী পিকআপ ডাকাতি, ছাত্রদল সভাপতিসহ গ্রেপ্তার ৫
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১২ পিএম
মৌলভীবাজারে পুলিশ পরিচয়ে মহিষবাহী পিকআপ ডাকাতির ঘটনায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতিসহ সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ৭ নম্বর চাঁদনীঘাট ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নজরুল ইসলাম অভি এবং ডাকাত দলের সর্দার জুমন মিয়া। এ সময় ডাকাতি হওয়া পিকআপটিও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সাবিয়া গ্রামের বুদু মিয়ার ছেলে ও চাঁদনীঘাট ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নজরুল ইসলাম অভি (২৬), বাউরঘড়িয়া (চানগাঁও) এলাকার শাহিন ড্রাইভারের ছেলে মেহেদী হাসান মুন্না (২৬), কনকপুর ইউনিয়নের নাগরা বা বালিয়াকান্দি এলাকার মৃত সুন্দর মিয়ার ছেলে ডাকাত দলের সর্দার জুমন মিয়া (২৬), পশ্চিম মোস্তফাপুরের আর রউফের ছেলে রাহেল মিয়া (২৩) এবং বাহারমর্দন এলাকার আরব আলীর ছেলে সম্রাট মিয়া (২৮)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বাসিন্দা মো. শহীদ মিয়া কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার থেকে চারটি মহিষ কিনে পিকআপে করে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৬ নম্বর একাটুনা ইউনিয়নের রায়শ্রী এলাকায় পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা একদল ডাকাত পিকআপটির গতিরোধ করে।
এ সময় ডাকাতরা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মহিষসহ পিকআপটি ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শহীদ মিয়া (৪২) ১৯ অক্টোবর মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেন।
মামলা তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ প্রথমে মৌলভীবাজার পৌরসভার মনু ব্যারেজ এলাকা থেকে খালি পিকআপটি উদ্ধার করে। পরে ১ নভেম্বর সদর থানা ও বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে মেহেদী হাসান মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাত দলের সর্দার জুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ছাত্রদল নেতা নজরুল ইসলাম অভিসহ চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ডাকাত দলের সর্দার জুমন মিয়ার নেতৃত্বে নজরুল ইসলাম অভিসহ সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। ঘটনার দিন তিনটি মোটরসাইকেলে পিকআপটির পিছু নিয়ে ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে অস্ত্রের মুখে গাড়িটি ছিনতাই করে তারা।
পরে মহিষগুলো বালিয়াকান্দি খেয়াঘাটসংলগ্ন একটি জঙ্গলে লুকিয়ে রাখা হয়। পরদিন সেগুলো সিলেটে নিয়ে বিক্রি করে পাওয়া টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় চক্রের সদস্যরা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হলে রাহেল মিয়া ও সম্রাট মিয়া ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খায়ের ও সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে উপপরিদর্শক রিপটন পুরকায়স্থ, আশরাফুল আলম চৌধুরী, জয়ন্ত সরকার, আবু সাঈদ মোহাম্মদ তৌহিদ এবং সহকারী উপপরিদর্শক রানা মিয়াসহ পুলিশের একটি বিশেষ দল অংশ নেয়।
এ ঘটনায় জড়িত ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, এ বিষয়ে জানতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রুবেল আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।