পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জেতা ১০৫ আসনেই জয়ের ব্যবধানের চেয়ে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা বেশি

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির বড় জয়ের পর নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রলের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিজেপি যে ১০৫টি আসনে জয় পেয়েছে, সেসব আসনে তাদের জয়ের ব্যবধানের চেয়েও বেশি ভোটারের নাম বিশেষ নিবিড় যাচাই প্রক্রিয়ায় বাদ দেওয়া হয়েছিল।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, এসব আসনের মধ্যে ৮৬টিতেই আগে কখনো জিততে পারেনি বিজেপি।

সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে। এর মাধ্যমে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দলটি। একই সঙ্গে টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের।

নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় যাচাই বা ভোটার তালিকা পুনঃপরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রায় ছয় মাস ধরে চলা এই কার্যক্রমে প্রায় ৯১ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এতে রাজ্যের মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১২ শতাংশ কমে যায়। এর মধ্যে অন্তত ২৭ লাখ ভোটারের চূড়ান্ত অবস্থান এখনো ঝুলে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একমাত্র বিজেপিই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়াকে পূর্ণ সমর্থন দেয়।

স্ক্রলের তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, অন্তত ১০৫টি আসনে বিজেপির জয়ের ব্যবধান ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যার চেয়ে কম ছিল। কলকাতাভিত্তিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সবর ইনস্টিটিউট বাদ পড়া ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করেছে।

বাঁকুড়ার ইন্দাস আসনের উদাহরণ তুলে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সেখানে তৃণমূল বিজেপির চেয়ে ৯ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল। পরে বিশেষ যাচাই প্রক্রিয়ায় ৭ হাজার ৫১৫ জন ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়। সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ওই আসনে মাত্র ৯০০ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছে।

একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে যাদবপুর আসনেও। দীর্ঘদিন বামপন্থীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে ২০২১ সালে জয় পেয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু এবার বিশেষ যাচাই প্রক্রিয়ায় ৫৬ হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ যায়। পরে নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, বিজেপি ২৭ হাজার ৭১৬ ভোটের ব্যবধানে প্রথমবারের মতো আসনটি দখল করেছে।

ফলাফলে তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কয়েকটি শক্ত ঘাঁটির পতনও দেখা গেছে। টালিগঞ্জ আসনে গত দুই দশকের মধ্যে প্রথমবার হেরেছেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। সেখানে বিজেপির প্রার্থী ৬ হাজার ১৩ ভোটে জয় পান। অথচ ওই আসনে ৩৭ হাজার ৮৮৯ জন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল।

এছাড়া শশী পাঁজা, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী, মলয় ঘটক ও স্নেহাশিস চক্রবর্তীর মতো একাধিক মন্ত্রীও নিজেদের আসনে পরাজিত হয়েছেন। তাদের প্রতিটি আসনেই বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা জয়ের ব্যবধানের চেয়ে বেশি ছিল।

সবচেয়ে আলোচিত ফল এসেছে ভবানীপুর আসনে। সেখানে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে হেরে যান। অথচ এই আসনে বিশেষ যাচাই প্রক্রিয়ায় ৫১ হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970