এক মাসে ইয়েমেনের নতুন ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছে হুথিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরব ও দেশটির সমর্থিত ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘাতের ৩৭ দিনে ইয়েমেনের আরও ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের চারটি শহরে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। এরপর এক মাস সাত দিন বা ৩৭ দিনে সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলা চালানোর পাশাপাশি ইয়েমেনের নতুন নতুন এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় হুথিরা।

এ সময়ে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা, রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন বড় শহর এবং মক্কা-মদিনাতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইয়েমেনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ চলমান পরিস্থিতিকে ‘অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও নির্ণায়ক এক পর্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, “এখানে যা ঝুঁকির মুখে রয়েছে তা হলো খোদ ইয়েমেন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ, ইয়েমেনি নাগরিকরা কেমন সমাজে বসবাস করবেন এবং সেই ভবিষ্যৎ কারা নির্ধারণ করবেন—সেসব বিষয়।”

এক মাসে সৌদি আরবে ধারাবাহিক হামলা

এনডিটিভি ডেটাফাইয়ের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার, পাইপলাইন, গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে অন্তত দুই ডজন বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে হুথিরা। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে কিছু স্থাপনা হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে এক হাজার ২৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত।

গত চার দিনে সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত তিনবার হামলা চালিয়েছে হুথিরা। এসব হামলার জেরে কর্তৃপক্ষকে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করতে হয়েছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আবহা, নাজরান ও জিজানের বিমানবন্দরেও হামলা চালানো হয়েছে।

স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, গত এক মাসে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের অন্তত নয়টি জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে তেল শোধনাগার, তেলক্ষেত্র ও গ্যাস কারখানা।

হামলাগুলো সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা কতটা সক্ষম, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সৌদি আরবের নির্ভরতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

যেভাবে তীব্র হলো সংঘাত

জুলাইয়ের শেষ দিকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। সে সময় লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজগুলোর ওপর নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেয় হুথি বিদ্রোহীরা।

এরপর খামিস মুশাইত, নাজরান, জিজান ও আবহা শহরে হামলার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এসব হামলায় ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হন এবং বিভিন্ন তেল স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

পরবর্তী সময়ে হুথিরা আকস্মিক স্থল অভিযান চালিয়ে লোহিত সাগরের উপকূলীয় কয়েকটি এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এসব এলাকার অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ বাব আল-মান্দাব প্রণালীর কাছাকাছি।

এর জবাবে সৌদি আরব বিমান হামলা চালিয়ে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সামরিক অভিযানে সমর্থন দেয়। ৪ অক্টোবর থেকে ওই সরকারের বাহিনী কয়েকটি এলাকায় সাফল্য পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামনে কী ঘটতে পারে

সানা সেন্টারের সহ-নির্বাহী পরিচালক ওসামা আল-রাওয়ানি বলেছেন, হুথিদের পরাজিত করা সহজ হবে না। কারণ, তারা উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলেছে।

এএফপিকে তিনি বলেন, “তবে কোনো এলাকা ধরে রাখা এবং পাল্টা আক্রমণের জন্য প্রয়োজন আর্থিক সম্পদ, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও দৃঢ় সংকল্প—বিশেষ করে রিয়াদের পক্ষ থেকে। সৌদি আরবের অতীতের কর্মকাণ্ড এমন কোনো আস্থার জন্ম দেয় না যে, দীর্ঘস্থায়ী কোনো যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার মতো সক্ষমতা বা ধৈর্য তাদের আছে।”

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত আরও তীব্র হলে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে। এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের হামলার কারণে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সংঘাত বাড়লে লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপরও হুথিদের হামলার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

সূত্র: এএফপি, এনডিটিভি

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970