মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দলকে ৪৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার দিলেন ইলন মাস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও দল সমর্থিত রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর পেছনে প্রায় ৪৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে তার এই বিপুল অর্থায়ন মার্কিন রাজনীতিতে অতি ধনীদের প্রভাব ও আধিপত্য নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবরের প্রথম দুই সপ্তাহে ইলন মাস্ক তার সমর্থিত রাজনৈতিক সংগঠন আমেরিকা পিএসিকে ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন। ৬ থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে সরাসরি দেওয়া অনুদানের পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। এ ছাড়া তার মালিকানাধীন ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা ইনকরপোরেশনের মাধ্যমে আরও প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার এসেছে। সব মিলিয়ে চলতি মধ্যবর্তী নির্বাচনে মাস্কের রাজনৈতিক অনুদানের পরিমাণ প্রায় ৪৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।

নির্বাচনী অর্থায়নের নথি অনুযায়ী, চলতি নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পক্ষে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত অর্থদাতা ইলন মাস্ক। তার এই বিপুল অর্থ ব্যয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো কংগ্রেসের দুই কক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সহায়তা করা।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের এক তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হবে। নির্বাচনের ফলাফলের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং কংগ্রেসে তার রাজনৈতিক অবস্থান অনেকাংশে নির্ভর করছে।

মাস্কের অর্থায়নের অন্যতম লক্ষ্য টেক্সাসের সিনেট নির্বাচন। ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর বিরুদ্ধে প্রচারে আমেরিকা পিএসি প্রায় ২ কোটি ৭৯ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। একই সঙ্গে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে সমর্থন দিতে আরও ৪৮ লাখ ডলার খরচ করেছে সংগঠনটি। এ ছাড়া ওহাইও, মিশিগান, আইওয়া ও মেইনের নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রচারে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।

ইলন মাস্কের এই অর্থায়ন শুধু বিজ্ঞাপন প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ভোটারদের কাছে প্রচারসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং তাদের ভোটদানে উৎসাহিত করার কার্যক্রমেও অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। ফলে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে রিপাবলিকানদের মাঠপর্যায়ের প্রচার জোরদার করতে মাস্কের অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মাস্কের বিপুল অর্থায়ন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও বাড়ছে। টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো অভিযোগ করেছেন, ইলন মাস্ক রাজ্যটির সিনেট আসন নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তার মতে, অতি ধনী ব্যক্তিদের বিপুল অর্থ ব্যয়ের কারণে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সাধারণ ভোটারদের প্রভাব কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মাস্কের অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকেও ছাড়িয়ে গেছে। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অন্যান্য রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে প্রায় ২৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার ব্যয় করেছিলেন তিনি। চলতি মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার অনুদানের পরিমাণ ইতিমধ্যে সেই অঙ্ককে ছাড়িয়ে গেছে।

২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্কের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে প্রশাসনে যুক্ত হওয়ার পর তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। একপর্যায়ে প্রশাসন থেকে সরে আসেন মাস্ক। তা সত্ত্বেও তার মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখনো মার্কিন সরকারের সঙ্গে চুক্তির আওতায় কাজ করছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও রয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের একাংশ মাস্কের সরকারি কার্যক্রম এবং তার মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের সরকারি চুক্তি নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে।

আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণের লড়াই নয়, মার্কিন রাজনীতিতে অতি ধনীদের প্রভাব কতটা বিস্তৃত হতে পারে, সেই প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। ইলন মাস্কের বিপুল অর্থায়নকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী ব্যবস্থায় অর্থের ভূমিকা এবং সাধারণ ভোটারদের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970