নুহ নবীর নৌকা বলে ধারণা করা স্থানে আরও এক নতুন আবিষ্কারের দাবি গবেষকদের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
তুরস্কের আরারাত পর্বতের কাছে অবস্থিত দুরুপিনার গঠনে নুহ নবীর নৌকার ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার নতুন দাবি করেছেন একদল গবেষক। তাদের দাবি, সেখানে পোড়া কাঠের মতো নমুনার পাশাপাশি ভূগর্ভের প্রায় ৩০ ফুট গভীরে অক্ষত কাঠের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে এসব নমুনা নুহ নবীর নৌকার অংশ কি না, তা এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।
‘নোয়াস আর্ক স্ক্যানস’ নামের গবেষক দলটি কয়েক সপ্তাহ ধরে দুরুপিনার গঠনে বিভিন্ন ধরনের স্ক্যান চালাচ্ছে। প্রায় ৫১৫ ফুট দীর্ঘ এই কাঠামোর অভ্যন্তরীণ অবস্থা অনুসন্ধানে ড্রোনও ব্যবহার করছেন তারা।
গবেষক দলটির প্রতিষ্ঠাতা অ্যান্ড্রু জোনস সম্প্রতি দাবি করেন, অনুসন্ধান চালিয়ে তারা নুহ নবীর নৌকার সম্ভাব্য পোড়া অবশিষ্টাংশের সন্ধান পেয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কাঠ পুড়ে যাওয়ার চিহ্নের পাশাপাশি মাটির প্রায় ৩০ ফুট নিচে অক্ষত কাঠের নমুনাও পাওয়া গেছে।
জোনসের ধারণা, কয়েক শতাব্দী আগে কোনো রাখাল কাঠামোটিকে আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করার সময় সেখানে আগুন জ্বালিয়ে থাকতে পারেন। এ ছাড়া বজ্রপাত কিংবা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণেও কাঠ পুড়ে যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোনস বিশ্বাস করেন, উদ্ধার হওয়া কাঠ নুহ নবীর নৌকার অংশ হতে পারে। তার যুক্তি, নৌকাটিকে পানিরোধী করার জন্য আলকাতরার মতো দাহ্য পদার্থ ব্যবহারের নির্দেশনা ছিল। সে কারণে কোনো একসময় কাঠামোটিতে আগুন ধরে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
এর আগেও দুরুপিনার গঠন নিয়ে একাধিক দাবি করেছিল গবেষক দলটি। গত সেপ্টেম্বর মাসে তারা কাঠামোটিকে মানুষের তৈরি বলে দাবি করে। সে সময় সেখানে ছিদ্র করে নমুনা সংগ্রহের পর পচে যাওয়া কাঠের সম্ভাব্য প্রমাণ পাওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন গবেষকেরা।
এ ছাড়া খননকাজের সময় একটি ছিদ্র করার যন্ত্র কাঠামোর ভেতরে শক্ত কোনো বস্তুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে ভেঙে যায় বলেও দাবি করা হয়েছিল। গবেষকদের ধারণা, বস্তুটি পাথরে পরিণত হওয়া কাঠ হতে পারে।
জোনসের দাবি, তাদের সংগৃহীত তথ্য দুরুপিনার গঠনকে প্রাকৃতিক শিলাস্তর হিসেবে বিবেচনা করার ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। প্রাথমিক রাডার স্ক্যানেও কাঠামোটির ভেতরে একটানা ও একই ধরনের কঠিন শিলাস্তরের বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
তবে গবেষকদের এসব দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। দুরুপিনার গঠনকে নুহ নবীর নৌকার ধ্বংসাবশেষ হিসেবে শনাক্ত করার পক্ষে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক মহলে এখন পর্যন্ত স্বীকৃত কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে নতুন আবিষ্কারের দাবিটি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান প্রয়োজন।
সূত্র: উইয়ন নিউজ