ভারতের নিষিদ্ধ পল্লি থেকে ৬ বাংলাদেশি তরুণী উদ্ধার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম
ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচারের পর পুনের কুখ্যাত যৌনপল্লিতে বিক্রি করে দেওয়া ছয় বাংলাদেশি তরুণীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মানবপাচার ও জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এরই মধ্যে দুই দালালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনে শহরের বুধবার পেথ এলাকার একাধিক নিষিদ্ধ পল্লিতে অভিযান চালিয়ে ওই ছয় তরুণীকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুনে পুলিশের উপকমিশনার ঋষিকেশ রাওয়ালের নির্দেশে ফারাসখানা, বিশ্রামবাগ ও খাদক থানার সমন্বয়ে একটি বিশেষ যৌথ দল গঠন করা হয়। পরে বুধবার ভোরে দলটি বুধবার পেথ এলাকার কয়েকটি যৌনপল্লিতে একযোগে অভিযান চালায়। এ সময় বন্দিদশা থেকে ছয় বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের পর ফারাসখানা থানায় মানবপাচার চক্রের চার সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও অন্য দুই অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া নারীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রায় চার মাস আগে ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে ভারতে নেওয়া হয়। তাদের কারও কাছেই বৈধ পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্র ছিল না।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, মুম্বাইসহ ভারতের বিভিন্ন আধুনিক শহরে আকর্ষণীয় চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তাদের। কিন্তু ভারতে নেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত পুনেতে এনে যৌনপল্লির পরিচালনাকারীদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে তাদের জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে ভারতে নারী পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বুধবার পেথ এলাকাকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসেও একই এলাকার একটি যৌনপল্লি থেকে চার বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার করেছিল পুনে সিটি পুলিশ।
সেই নারীদেরও একইভাবে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে নিয়ে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।