যুদ্ধ বন্ধে খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা, দোহা ছাড়লেন ইরানি প্রতিনিধিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসেছিলেন ইরানের প্রতিনিধিরা। আলোচনা শেষে রোববার দোহা ছেড়েছেন ইরানি আলোচকরা। তবে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আবারও বৈঠক হতে পারে।

সোমবার বৈঠকের বিষয়ে অবগত এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনায় কোনো জটিলতা বা মতবিরোধের কারণে ইরানি প্রতিনিধিরা দোহা ত্যাগ করেননি। তবে সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া প্রস্তাবের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ওই কর্মকর্তা।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি আলোচনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল। এ উদ্দেশ্যে গত সেপ্টেম্বর মাসে ইরানের তৈরি সাত দফা পরিকল্পনা নিয়ে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সমঝোতা চুক্তি হলে পরিকল্পনাটি আরও কম সময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।

মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বার্তা আদান-প্রদান সহজ করতে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি দোহায় অবস্থান করছিলেন।

তিনি বলেন, ইরানের দাবিগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট ও স্বচ্ছতার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। এসব দাবি যৌক্তিক ও ন্যায়সংগত। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের সব দাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং দেশটির ন্যায্য প্রয়োজনীয়তা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে না। এসব শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া কিংবা এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সম্ভব নয়।

এর আগে শনিবার কাতারের সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছিলেন, চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি চালুর বিষয়ে সাত দিনের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তা কমিয়ে মাত্র দুই দিনে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

ইরানের প্রাথমিক প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এদিকে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন শেষে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আবারও বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সর্বশেষ দফার কূটনৈতিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের বিষয়ে তেহরানের অবস্থান জানতে চাইলে ইসমাইল বাঘাই বলেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কোনো দেশের জন্ম হবে বলে ইরান মনে করে না।

অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে কোনো হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে ভবিষ্যতে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

সূত্র: রয়টার্স

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970