হিজাব পরতে নিষেধাজ্ঞা, ২১ বছরের শিক্ষকতা ছেড়ে দিলেন শিক্ষিকা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
হিজাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে চাকরি ছেড়েছেন ২১ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এক নারী শিক্ষিকা। আজারবাইজানের রাজধানী বাকু ও সুমগাইতের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পোশাকবিধি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। হিজাব পরার কারণে একজন অভিজ্ঞ শিক্ষিকাকে কেন শ্রেণিকক্ষ ছাড়তে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে আজারবাইজানের মন্ত্রিসভা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার পরিপন্থী পোশাক নিষিদ্ধ করে সংশোধিত আইন জারি করে। শুরুতে শিক্ষার্থীদের পোশাকের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের কথা বলা হলেও পরবর্তী সময়ে এর প্রভাব পড়ে শিক্ষকদের ওপরও। এর প্রতিবাদে ২১ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ওই শিক্ষিকা চাকরি ছেড়ে দেন। হিজাবের প্রতি নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিয়েই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে স্কুলে হিজাব পরতে না পেরে চাকরি ছেড়ে দেওয়া ওই শিক্ষিকার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বিদায়ের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে জড়িয়ে ধরে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি ঘিরে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় হিজাব পরিধানে বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে।
এ ঘটনায় বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তারের খবরও সামনে এসেছে। আজারবাইজানের হিজাববিষয়ক এই বিতর্ক দেশটির সীমানা ছাড়িয়ে মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশগুলোতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রায় ৯৬ শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশটিতে ধর্মীয় পোশাক নিয়ে সরকারের এমন অবস্থানের কারণ কী, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নিষেধাজ্ঞা এড়াতে কয়েকজন শিক্ষিকা হিজাবের পরিবর্তে আজারবাইজানের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী স্কার্ফ কেলাগাই পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তাতেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে শিক্ষিকাদের বরখাস্ত করা হচ্ছে কিংবা পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
মানবাধিকারকর্মী ও অভিভাবকদের একাংশের মতে, একজন শিক্ষকের পোশাকের চেয়ে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও নৈতিকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের এভাবে পেশা ছাড়তে বাধ্য করা হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ধর্মীয় পোশাক নিয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং শিক্ষকদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আজারবাইজানে বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে। তবে এই বিধিনিষেধের কারণে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের হারানোর প্রভাব দেশটির শিক্ষাব্যবস্থায় কতটা পড়বে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।