হাসিনার আমলে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ হত্যার শিকার: আইনমন্ত্রী
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম
গত ১৬ বছরের শাসনামলে ‘ক্রসফায়ার’-এর নামে সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সময়ে ৭০০-এর বেশি মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন এবং ৬০ লাখেরও বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক উৎসব এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। এটি দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন, ত্যাগ ও নির্যাতনের ধারাবাহিকতার একটি যৌক্তিক এবং সফল পরিণতি। যারা এ সময়ে জীবন দিয়েছেন, গুম হয়েছেন কিংবা মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছে। একই সময়ে ৭০০-এর বেশি মানুষ গুম হয়েছেন, যাদের স্বজনরা আজও প্রিয়জনের ফিরে আসার আশায় দিন গুনছেন।
মন্ত্রী দাবি করেন, ৬০ লাখের বেশি মানুষকে মিথ্যা ও গায়েবি মামলার আসামি করা হয়েছিল। এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে বহু আগে মারা যাওয়া ব্যক্তি, হজ পালনে থাকা মানুষ কিংবা দুই হাত হারানো প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বিরুদ্ধেও বোমা হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি জানতে পারেন, দেশে আবৃত্তিকে শিল্পের স্বতন্ত্র শাখা হিসেবে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছিল না। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইন সংশোধনের মাধ্যমে আবৃত্তিকে নৃত্য ও সংগীতের মতো শিল্প-সংস্কৃতির একটি স্বীকৃত শাখা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আবৃত্তি মানুষের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মুক্তচিন্তা ও মানবিকতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও রক্তপাতহীন সমাজ গঠনে আবৃত্তিশিল্পীদের অবদান উল্লেখযোগ্য এবং এ ধরনের উদ্যোগে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।