অব্যবহৃত জলাশয় তরুণদের মধ্যে বণ্টন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

দেশের অব্যবহৃত পুকুর, হাওর, বিল, খাল ও অন্যান্য জলাশয় সংস্কার করে সেখানে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পাশাপাশি স্থানীয় তরুণদের মধ্যে এসব জলাশয় ব্যবহারের সুযোগ বণ্টন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে কটিয়াদির আচমিতা জর্জ ইন্সটিটিউশন মাঠে আয়োজিত জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর উদ্বোধন ও পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক (স্বর্ণ পদক) প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। এবারের জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ‘রুপালী মৎস্য স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর ও হাওর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সরকার এসব জলাশয় সংস্কার করে মাছের পোনা অবমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বেকার তরুণদের মধ্যে জলাশয় ব্যবহারের সুযোগ বণ্টন করা হবে, যাতে তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

মৎস্য সম্পদ রক্ষায় হাওর ও জলাশয়ের পরিবেশ সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, মাছের উৎপাদন ও মৎস্যসম্পদ রক্ষা করতে হলে পরিবেশের দিকেও নজর দিতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে মানুষ যেমন সুস্থ পরিবেশে বসবাস করতে পারবে, তেমনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মও একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ পাবে।

জলাশয়ে বর্জ্য ও প্লাস্টিক ফেলার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা, টিস্যু পেপার ও প্লাস্টিকের বোতল ফেলার কারণে খাল-বিল, নদী-নালা এবং হাওর-জলাশয়ের পরিবেশ ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে। পরিবেশ, মাছ ও পানি রক্ষার পাশাপাশি দূষণ রোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মৎস্য খাতের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্বের প্রায় ৫২টি দেশে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট জলজ প্রাণী উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে ৫ম এবং অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ আহরণে ২য় অবস্থানে রয়েছে।

মৎস্য খাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, খুলনা অঞ্চলে ৩০০টি ক্লাস্টার গঠনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৭ হাজার ৫০০টি ঘেরে উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজারের চকরিয়ায় ৭ হাজার একর জমিতে ‘শ্রিম্প সিটি’ বাস্তবায়নে মাস্টারপ্ল্যান ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে।

ইলিশের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান প্রায় ১০ শতাংশ এবং জাতীয় জিডিপিতে এর অবদান ১ শতাংশের বেশি। বিগত বিএনপি সরকারের সময় প্রবর্তিত ‘ইলিশ ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান’-এর ধারাবাহিকতায় দেশে ইলিশ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

মৎস্যজীবী ও জেলেদের সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল। মৎস্য চাষীদের কৃষক কার্ড প্রদান এবং জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো সুন্দরবন ও হাওর অঞ্চলে মাছ ধরার নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের ভিজিএফ সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে।

প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান ও নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে সরকার ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ গঠন করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই তহবিল থেকে সম্ভাবনাময় নতুন উদ্যোক্তাদের শিল্প শুরু ও পরিচালনার জন্য ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হবে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নতুন উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মৎস্য ও পশুসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গত জুন মাসে নাইজেরিয়ায় হ্যাচিং ডিম রপ্তানি করা হয়েছে। বিদেশে নতুন নতুন পণ্যের বাজার খুঁজে বের করতে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970