দল চাইলে মেয়র পদে নির্বাচন করব: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

দল দায়িত্ব দিলে মেয়র পদে নির্বাচন করতে প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা ৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তবে দল অন্য কাউকে প্রার্থী করলে তাকেও জয়ী করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার, ৪ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ইশরাক হোসেন।

মেয়র নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, দলের যেকোনো প্রয়োজনে তিনি এগিয়ে আসতে প্রস্তুত। দল যদি মনে করে তাকে মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী করা প্রয়োজন, তাহলে তিনি নির্বাচন করতে প্রস্তুত রয়েছেন। আবার দল অন্য কাউকে প্রার্থী করলে সেই প্রার্থীকে জয়ী করতেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

তিনি বলেন, দল যদি মনে করে অন্য কেউ নির্বাচন করবে, তাহলে তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে। দলের মনোনীত প্রার্থীকে জয়ী করতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা ৬ আসনের বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা, সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয়, যানজট, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ, বুড়িগঙ্গা দূষণ, সড়ক, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন ইশরাক।

এলাকার সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা ৬ আসনের বিভিন্ন এলাকার নাগরিক সমস্যার মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অন্যতম। কিছু এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্ষার সময় এর প্রভাব আরও বেশি দেখা যায়। বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।

বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হিসেবে ডেঙ্গুর ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেন ইশরাক। ঢাকা ৬ আসনের কয়েকটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর উচ্চঝুঁকির এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব এলাকায় সিটি করপোরেশন উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

সড়কের অবস্থা নিয়েও কথা বলেন তিনি। ইশরাক জানান, দায়িত্ব নেওয়ার সময় অনেক রাস্তা অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর অনেক ঠিকাদার চলে যাওয়ায় এসব কাজ শেষ হয়নি। এতে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। তবে বর্তমানে অধিকাংশ সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং কিছু এলাকায় শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সিটি করপোরেশনের আওতাধীন না হলেও কিছু এলাকায় অবনতির কথা জানান ইশরাক। এ বিষয়ে তিনি নিয়মিত পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেন বলেও জানান।

পুরান ঢাকার সড়কবাতির সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক এলাকায় সরু ও সংকীর্ণ রাস্তা রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের পর এসব এলাকায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই দ্রুত সড়কবাতি মেরামতের বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।

বৃষ্টির সময় বিভিন্ন স্থানে ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। পানি জমে গেলে এসব খোলা ম্যানহোল সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। এ কারণে দুর্ঘটনার পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তিনি।

ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি ঠেকাতে স্থায়ী সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে ইশরাক বলেন, এ বিষয়ে ওয়াসা ও সিটি করপোরেশন ভালোভাবে বলতে পারবে। কারণ সড়কের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের এবং ড্রেনেজ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ওয়াসার আওতাধীন।

তবে বিষয়টি সমাধানে সামাজিক আন্দোলনও প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী ও সিসিটিভি ব্যবস্থার মাধ্যমেও নজরদারি বাড়ানো যেতে পারে বলে জানান।

মাদকসেবী ও ছিন্নমূল মানুষের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন ইশরাক। তার মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এসব সমস্যা পুরোপুরি মোকাবিলা করা কঠিন।

অটোরিকশা ও যানজট প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, যানজট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও উদ্বিগ্ন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ঢাকা মহানগর পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কমিটি করা হয়েছে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ও এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

ইশরাক জানান, তিনি ওই কমিটির সদস্য নন। তবে এ বিষয়ে তার সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা হয়। তার মতে, শুধু নীতিমালা তৈরি করলেই হবে না, সেটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নও করতে হবে।

কিছু এলাকায় রিকশার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাই এলাকাভিত্তিক সীমিতসংখ্যক রিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এতে রিকশাগুলো প্রধান সড়কে উঠে আসবে না এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচল করতে পারলে যানজটও কমানো সম্ভব হবে।

ঢাকার রাস্তায় কতসংখ্যক রিকশা চলাচল করে তার সঠিক হিসাব করা কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রিকশা আমদানির ক্ষেত্রেও নীতিমালার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন বলে জানান।

অটোরিকশা আমদানি ও উৎপাদন বন্ধের বিষয়ে সংসদে ভূমিকা রাখবেন কি না জানতে চাইলে ইশরাক বলেন, বিষয়টি এক দিনে বন্ধ করা সম্ভব নয়। দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ এ খাতের সঙ্গে যুক্ত। ফলে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে বাস্তব পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, অটোরিকশা আমদানির বিষয়টি তিনি সংসদের পাশাপাশি মন্ত্রিসভায় আলোচনা করবেন। জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে।

ইশরাক জানান, অটোরিকশার বিষয়টি মন্ত্রিসভায় একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেও অবৈধ অটোরিকশার কারণে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে বলে সেখানে আলোচনা হয়েছে।

তবে বিপুলসংখ্যক মানুষ এই পেশার সঙ্গে জড়িত হওয়ায় হঠাৎ করে ব্যবস্থা নেওয়া চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। সরকার বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে এবং দ্রুত এর বাস্তবায়ন দেখা যাবে বলেও জানান।

সিটি করপোরেশনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, তিনি কারও দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছেন না। ঢাকা শহরে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক মানুষ বসবাস করেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন মেটাতে সিটি করপোরেশন চাইলেও সবকিছু একসঙ্গে করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ঢাকা ৬ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে তারা সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতা করার জন্য বিভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন। সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।

বুড়িগঙ্গা নদীতে কলকারখানার বর্জ্য ও রাসায়নিক বর্জ্য ফেলার বিষয়ে ইশরাক বলেন, এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় ব্যবস্থা নিয়েছে। আগের তুলনায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, রাতারাতি বুড়িগঙ্গা দূষণ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে ধারাবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে একসময় এটি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে। নদীতে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা কোনোভাবেই আইনসঙ্গত নয়।

ইশরাকের অভিযোগ, গত ১৭ বছরে অনেক অবৈধ কলকারখানা গড়ে উঠেছে এবং সেগুলোকে অবাধ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। শুধু শিল্পকারখানার বর্জ্য নয়, বাসাবাড়ির পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনাও ঠিক করতে হবে। বর্জ্য সরাসরি নদীতে না ফেলে পরিশোধনের মাধ্যমে নদীতে পানি ছাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম ছয় মাসের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, পরিকল্পনা থাকলেও ছয় মাসের মধ্যে তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা কঠিন। কারণ তারা একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র ও নানা সমস্যায় জর্জরিত একটি শহরের দায়িত্ব পেয়েছেন। তাই প্রথমে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের দিকে নজর দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, তার প্রধান লক্ষ্য একটি বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলা। ২০২০ সালের সিটি নির্বাচনেও তিনি বলেছিলেন, ঢাকা সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, লন্ডন, ইউরোপ বা আমেরিকা হবে না। এসব উদাহরণ দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত না করে প্রথমে ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

ইশরাক বলেন, ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের তালিকায় ঢাকা প্রতিবছর বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য নগরীগুলোর মধ্যে থাকে। যুদ্ধবিধ্বস্ত বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি ঢাকার অবস্থান থাকাটা উদ্বেগজনক। তাই উন্নয়নের প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত ঢাকাকে বাসযোগ্য করে তোলা।

উন্নয়ন বলতে শুধু দালান, সেতু বা সড়ক নির্মাণ বোঝেন না বলেও জানান ইশরাক। তার মতে, গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাও নগর উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঢাকার অনেক এলাকায় ৮০ বছরের পুরোনো গ্যাসের পাইপলাইন রয়েছে। এসব পাইপলাইন বর্তমান সময়ের উঁচু ভবন ও বিপুলসংখ্যক মানুষের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি হয়নি।

ঢাকার উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনার অভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় সাতটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪০টির বেশি সেবাদানকারী সংস্থা কাজ করে। এ কারণে বিভিন্ন উন্নয়নকাজে সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।

ধোলাইখাল ও লক্ষ্মীবাজারের বিভিন্ন সড়কে হকার ও অবৈধ স্থাপনার কারণে চলাচলের জায়গা সংকুচিত হওয়ার কথাও জানান ইশরাক। এসব সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

ধোলাইখালের ট্রাকস্ট্যান্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলাকাবাসীর দাবির ভিত্তিতে ট্রাকস্ট্যান্ডটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য সিটি করপোরেশনের কাছে আবেদন করা হবে। নদীর ওপারে নির্দিষ্ট স্থানে এটি স্থানান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হবে।

ইশরাক বলেন, ধোলাইখালের ট্রাকস্ট্যান্ড শুধু নির্দিষ্ট জায়গার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। সন্ধ্যার পর পুরো সড়কই অনেকটা ট্রাকের দখলে চলে যায়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগস্থলে চলাচল ব্যাহত হয়। বিষয়টি সমাধানে তারা কাজ করছেন।

ঢাকার দক্ষিণ অংশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানেও কাজ চলছে জানিয়ে ইশরাক বলেন, এসব বিষয়ে তাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনাও তারা নিয়মিত পাচ্ছেন।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970