এক বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারের চেহারা বদলে যাবে: অর্থমন্ত্রী
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
পুঁজিবাজার পুনরুজ্জীবিত ও সম্প্রসারণে সরকার ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের চেহারা বদলে যাবে।
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশনসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজারকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার সামগ্রিকভাবে কাজ করছে। আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজারে পরিবর্তিত চিত্র দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজার শক্তিশালী করতে এরই মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পুঁজিবাজারে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন আনা হয়েছে, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে এসব উদ্যোগ প্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, দেশের পুঁজিবাজারে এখন বাস্তবভিত্তিক উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কিছু অংশীজনের জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, প্রচলিত অর্থায়নের উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশের আর্থিক কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন আনার দিকে এগোচ্ছে সরকার।
তিনি বলেন, দেশের সরকারি অর্থব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতে অর্থায়নের কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। উচ্চ সুদে ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে, সেই সুযোগ তৈরি করতে হবে।
বিশ্বমানের অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে বাংলাদেশকে হাই স্ট্রিট থেকে ওয়ার্ল্ড স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে যেতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য বন্ড মার্কেট, ডেরিভেটিভস, সিকিউরিটাইজেশন ও ইক্যুইটি মার্কেটের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান অর্থমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক অর্থায়নের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের দিকে যেতে হবে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কর্মসূচি বাতিল করেছে। কারণ সংস্থাটির দেওয়া শর্তগুলো সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা আস্থা প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক তানভীর শাহরিয়ার গনি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন উপস্থিত ছিলেন।