শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা মির্জা ফখরুল এবার বঙ্গভবনে

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:১২ এএম

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ফলে ১৭৭ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন মির্জা ফখরুল।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে প্রায় পাঁচ বছর দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়।

সংসদ ও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ী হতে পারেননি।

ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র থাকাকালেই ষাটের দশকে মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। সে সময় তিনি পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন।

পরবর্তীতে তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হল ইউনিটের মহাসচিব নির্বাচিত হন। সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পর ১৯৬৯ সালে আইয়ুববিরোধী গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হন তিনি। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও যেতে হয়।

জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ

১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন মির্জা ফখরুল। এর দুই বছর পর ১৯৮৮ সালে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে দেশজুড়ে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দেন মির্জা ফখরুল। ১৯৯২ সালে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়।

শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে কয়েকটি সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন তিনি।

সরকারি চাকরিজীবনে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের উপপরিচালক এবং ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১৯৭৯ সালের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৮২ সালে এস এ বারীর পদত্যাগের আগ পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে ছিলেন।

পারিবারিক জীবন

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। তাদের দুই মেয়ে—মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ।

মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমীন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এর আগে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়রও ছিলেন।

তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। তিনি ঠাকুরগাঁও নির্বাচনি এলাকা থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বাংলাদেশ সরকারের কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

মির্জা ফখরুলের চাচা মির্জা গোলাম হাফিজও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ভূমিমন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অন্য চাচা উইং কমান্ডার এস আর মির্জা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারের দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের জন্য গঠিত যুব শিবির অধিদফতরের প্রধান হিসেবেও তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970