চট্টগ্রাম-ঢাকা যাত্রায় কমবে সময়, আসছে বৈদ্যুতিক ট্রেন
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনতে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিচালনার জন্য বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্যের প্রশ্ন ছিল, দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনতে বৈদ্যুতিক বা দ্রুতগতির ট্রেন চালুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে কি না এবং থাকলে তা কবে বাস্তবায়ন হবে।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিচালনার জন্য বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর এর বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, অর্থায়ন পাওয়া সাপেক্ষে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালানো সম্ভব হবে। এতে ট্রেনের গড় গতি বাড়ার পাশাপাশি যাতায়াতের সময়ও কমবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দূরত্ব কমানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত কর্ডলাইন নির্মাণের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে রেলপথের দূরত্ব কমবে এবং ট্রেনের গড় গতি বাড়বে। ফলে কম সময়ে দুই শহরের মধ্যে যাতায়াত করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেলপথকে দ্বৈত রেলপথে রূপান্তরের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম অংশে দ্বৈত রেলপথ নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে।
এর মধ্যে লাকসাম-চট্টগ্রাম দ্বৈত রেলপথ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অন্যদিকে টঙ্গী-আখাউড়া দ্বৈত রেলপথ প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা ও ট্রেনের গতি উভয়ই বাড়বে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।