ট্রেন্ডের সঙ্গে সরকারও আশির দশকে ফিরে যেতে চাইছে: নাহিদ ইসলাম
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আশির দশকে ফিরে যাওয়ার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বর্তমান সরকারকেও দেখে মনে হচ্ছে, তারাও যেন সেই সময়ের দিকে ফিরে যেতে চাইছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির আয়োজনে ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারুণ্যের রাজনৈতিক ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আশির দশকে এমন গ্যাস-বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ছিল না। মনে হচ্ছে সরকারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই প্রবণতার সঙ্গে থাকার চেষ্টা করছে। তবে সরকার প্রবণতার সঙ্গে থাকুক, সেটি যেন ইতিবাচকভাবে হয় এটাই প্রত্যাশা।
তিনি বলেন, পুরো বিশ্ব যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশ যেন কোনোভাবেই পিছিয়ে না পড়ে। বিশেষ করে এত বড় গণঅভ্যুত্থান, রক্তদান ও আত্মত্যাগের পর এটাই সবার প্রত্যাশা। এই আত্মত্যাগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীরা। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ঘিরে সরকারের বিশেষ নীতি ও পরিকল্পনা থাকা উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় নামের সঙ্গে ‘বিশ্ব’ শব্দটি যুক্ত রয়েছে। এটি শুধু আঞ্চলিক বা জাতীয় বিষয় নয়, আন্তর্জাতিক বিষয়। বিশ্বমানের চিন্তা-চেতনা ধারণ, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আগামীর পৃথিবীর জন্য প্রস্তুত করাই বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
সম্প্রতি বিভিন্ন জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদে একজন সংসদ সদস্য নিজ জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানানোর পর আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য বিভিন্ন জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছেন। পরে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রথম দাবিকৃত জেলায় এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন করা হয়েছে, শুধু উপাচার্য নিয়োগ বাকি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আগের শাসনামলেও প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রবণতা দেখা গেছে। কিন্তু শুধু দলীয় লোকদের চাকরি দেওয়া বা রাজনৈতিক বিবেচনায় বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় খুললেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসে না।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জেলাভিত্তিক উদ্যোগ হতে পারে না। এর পেছনে জাতীয় পরিকল্পনা ও সুনির্দিষ্ট রূপরেখা থাকতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েরও নিজস্ব লক্ষ্য ও অবদান নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এই বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে পুরো বরিশাল অঞ্চলকে নেতৃত্ব দেবে এবং জাতীয় পর্যায়ে কী অবদান রাখবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গবেষণাভিত্তিক ১০টি কার্যকর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা দেশের ৭১টি জেলায় শুধু স্নাতক তৈরি করার চেয়ে অনেক বেশি ফলপ্রসূ।
শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কার ছাড়া তরুণদের কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সরকারি চাকরির মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেখানে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ৫০-এ নামিয়ে আনার কথা বলেছিলেন, সেখানে ক্ষমতায় এসে এর বিপরীত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ ধরনের দ্বৈত নীতি ও সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পর দেশের পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সময়ে যেমন হতাশা ও না পাওয়ার বেদনা রয়েছে, তেমনি অনেক আশাও রয়েছে। দুই বছরে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং পরবর্তীতে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার এসেছে। নির্বাচিত সরকারের অনেক প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সেসব প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা জনগণই বিচার করবে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ত্যাগ স্মরণ করে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে ত্যাগ ও রক্ত দিয়েছেন, তা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি তরুণ ও শিক্ষার্থীদের দল। তাদের গঠনমূলক সমালোচনা ও সহযোগিতা নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে চান তারা।
অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় ছাত্রশক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।