মেট্রোরেলের দুই লাইন নির্মাণে ৪৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রস্তাব অনুমোদন
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্পের লাইন-১ ও লাইন-৫-এর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে মেট্রোরেলের মোট আটটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রয় প্রস্তাব বিবেচনা করা হয়, এর মধ্যে পাঁচটি প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে এবং বাকি তিনটি অনুমোদনের জন্য পরবর্তী ধাপে সুপারিশ করা হয়েছে।
অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে লাইন-১-এর সিপি-০২, সিপি-০৬, সিপি-০৯ ও সিপি-১০ এবং লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজের পূর্তকাজ, এছাড়া লাইন-১-এর সিপি-০৪ ও সিপি-০৭ এবং লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০২ প্যাকেজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশের তালিকায় রয়েছে।
লাইন-১-এর চার প্যাকেজে ব্যয় ৩৩ হাজার কোটি টাকার বেশি
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, লাইন-১-এর সিপি-০২ প্যাকেজের আওতায় ৪ হাজার ২৮৫ কোটি ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৮৮ টাকা ব্যয়ে ডিপোর ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড, অপারেশন ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ও বিভিন্ন উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে, দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএলের যৌথ উদ্যোগকে সুপারিশ করা হয়।
প্যাকেজ সিপি-০৬-এর আওতায় নাড্ডা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পথ, দুটি সুড়ঙ্গ ও তিনটি স্টেশন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ ৭ হাজার ২৯৯ টাকা, এ কাজে নিশিমাতসু, টিপিএল ও টোডার যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা করা হয়েছে।
সিপি-০৯ প্যাকেজে ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৭ লাখ ৭২ হাজার ১৫০ টাকা ব্যয়ে রেলপথ, পয়েন্ট ও ক্রসিং এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপন করবে লারসেন অ্যান্ড টুব্রো এবং সুমিতোমোর যৌথ উদ্যোগ, অন্যদিকে, সংকেত ব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ ও অটোমেটিক প্ল্যাটফর্ম ডোর স্থাপনের সিপি-১০ প্যাকেজে ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ ৩১ হাজার ৭১৬ টাকা ব্যয়ে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রো লিমিটেড।
লাইন-৫-এ উড়ালপথ ও পাঁচ স্টেশন
মেট্রোরেলের লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজের অধীনে ২ হাজার ৬৭০ কোটি ৯৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৬০ টাকা ব্যয়ে হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার এবং নতুন বাজারের পর থেকে ভাটারা পর্যন্ত মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়ালপথ নির্মাণ করা হবে, একই সাথে হেমায়েতপুর, বলিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারায় পাঁচটি উড়াল স্টেশন নির্মিত হবে, চীনের সিআরইসি, এমআইএল ও এমবিইএলের যৌথ উদ্যোগ এই দায়িত্ব পাচ্ছে।
আরও তিন প্যাকেজের প্রস্তাব সুপারিশ
বৈঠকে লাইন-১-এর ১৮ হাজার ৩৭ কোটি ২৫ লাখ ৮৯ হাজার ৬৫৬ টাকা মূল্যের রামপুরা থেকে নতুন বাজার অংশের প্রধান লাইন নির্মাণের জন্য টোকিউ-মিল যৌথ উদ্যোগকে এবং ২ হাজার ৫৩৪ কোটি ৯ লাখ ৪৩ হাজার ২৪১ টাকা মূল্যের ট্রানজিশন থেকে বালু নদী অংশের কাজ সিআরইসি-মিল-এমবিইসি যৌথ উদ্যোগকে প্রদানের সুপারিশ করা হয়, পাশাপাশি লাইন-৫ উত্তর রুটের ডিপোর পূর্তকাজে ১ হাজার ৮৪৭ কোটি ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৫৮ টাকার প্রস্তাব কনকর্ড প্রগতি কনসোর্টিউম ও হ্যানিল ইঞ্জিনিয়ারিং যৌথ উদ্যোগকে সুপারিশ করা হয়েছে।
উভয় প্রকল্প বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার যৌথ অর্থায়নে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড বাস্তবায়ন করছে, ২০৩৩ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প দুটির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।