জাতিসংঘে যোগ্যতায় নিয়োগ পেয়েছেন জাইমা রহমান, সরকারের সংশ্লিষ্টতা নেই
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১০ পিএম
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের নিয়োগে বাংলাদেশ সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত মেধা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় জাইমা রহমান এই দায়িত্ব পেয়েছেন।
বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জাইমা রহমানকে কোনো চাকরি দেওয়া হয়নি। জাতিসংঘে বাংলাদেশ সরকারের স্থায়ী মিশনেও তার কোনো পদায়ন হয়নি। জাতিসংঘের নিজস্ব নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট মানবসম্পদ বিভাগ তার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, জাইমা রহমান সরাসরি জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। নিয়োগের যাবতীয় প্রক্রিয়া ও আর্থিক সুবিধা জাতিসংঘের নিজস্ব ব্যবস্থার আওতাভুক্ত বলেও দাবি করেন মাহদী আমিন।
জাতিসংঘের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাইমা রহমান সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ওই কার্যালয়ে বিভিন্ন পদে মোট ৪০ জন কর্মকর্তা রয়েছেন এবং সেখানে একাধিক বাংলাদেশিও দায়িত্ব পালন করছেন।
মাহদী আমিন বলেন, জাতিসংঘের পেশাগত কাঠামো অনুযায়ী বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি পেশাগত অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। তার দাবি, জাইমা রহমান নিজের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়িত্ব পেয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে চার কার্যদিবসে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে জাতিসংঘের আটটি কর্মসূচি, চারটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব অনুষ্ঠান এবং ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছিল। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
মাহদী আমিন জানান, সফরকালে বাংলাদেশ দলের পক্ষ থেকে ৮০টির বেশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ৩৫ সদস্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিদল নিয়ে নিয়মিত বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে প্রধানমন্ত্রী এই সফর করেন বলেও জানান তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, মিয়ানমারকেই এই সংকটের সমাধান করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বিভিন্ন বিশ্বনেতা বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেছেন বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং সরকারের কর্মপরিকল্পনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, খাল খনন, পদ্মা ব্যারেজ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।
স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি পার্শ্ব অনুষ্ঠানে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। এর মধ্যে ৮০ হাজার নারী স্বাস্থ্যকর্মী এবং ২৫ হাজার পেশাদার ধাত্রী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। পাশাপাশি ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি, জ্বালানি, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান মাহদী আমিন।
সফরসঙ্গী ডা. জুবাইদা রহমানও আটটি কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং তিনটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। নারী নেতৃত্ব, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং ধাত্রীবিদ্যা বিষয়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের স্মরণ করেছেন। একই সঙ্গে বিশ্ব সংকট মোকাবিলায় যুক্তি, শিক্ষা ও মানবতাকে প্রধান হাতিয়ার করার কথা বলেছেন তিনি।
সালেহ শিবলী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ই হেলথ কার্ডসহ জনগণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরেছেন।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের গুম, খুন, অপহরণ, মামলা ও হয়রানির মধ্য দিয়ে ভয় ও আতঙ্কের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে মুক্ত একটি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।