মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় মামা ওবায়দুর ৪ দিনের রিমান্ডে
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৫ পিএম
সাতক্ষীরা ৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় তাঁর মামা ও সংসদ সদস্যের গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন তদন্ত কর্মকর্তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওবায়দুরের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ।
এদিন ওবায়দুরকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি বলেন, মরিয়ম সত্যিই আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে তদন্তের স্বার্থে ওবায়দুরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
রিমান্ড শুনানির একপর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওবায়দুরকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনিও জামায়াতের সদস্য। এ সময় আদালতের কাছে ওবায়দুর বলেন, ‘আমি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না।’
অন্যদিকে আসামিপক্ষ থেকে রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ওবায়দুরের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে বুধবার ওবায়দুরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ৩৮ বছর বয়সী ওবায়দুর রহমান মরিয়মের মামা এবং গাজী নজরুল ইসলামের গাড়িচালক। মামলার আসামি গাজী নজরুল ইসলাম মরিয়মের বাসায় যাতায়াত ও রাতযাপনসহ বিভিন্নভাবে তাঁর পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। এ কারণে ওবায়দুরের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে তাঁর কথাবার্তা হতো।
তদন্তে জানা গেছে, গাজী নজরুল ইসলাম নিয়মিত মরিয়মের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলতেন এবং তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যেতেন। তিনি ন্যাম ভবনের বাসায়ও যাতায়াত করতেন। নজরুল ইসলাম ও আরও অজ্ঞাতনামা আসামিরা বিভিন্ন সময়ে মরিয়ম ও তাঁর স্বামীকে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতেন বলেও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনায় ওবায়দুরের সম্পৃক্ততার বিষয়ে স্থানীয় সাক্ষ্য ও প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মরিয়মের বিয়ের আগে থেকেই নজরুল ইসলামের সঙ্গে বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন ওবায়দুর। বিয়েসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তে জানা গেছে।
মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে ওবায়দুরকে বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া মরিয়মের আত্মহত্যায় ওবায়দুরের কোনো প্রভাব ছিল কি না, আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উসকানি, মানসিক চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অন্য কোনোভাবে সহায়তা করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল কি না, তা জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, অজ্ঞাতনামা আসামিদের সম্পৃক্ততা শনাক্ত এবং মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের জন্যও তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
ওই রাতেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং মাকছুদা বেগমকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ওই রাতেই মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রিমান্ড শেষে মাকছুদা বেগমকে মঙ্গলবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর গাজী নজরুল ইসলাম চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।