পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, প্রথম ভোট ২১ জানুয়ারি
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
বহুল প্রতীক্ষিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। প্রথম ধাপের ভোট হবে ২১ জানুয়ারি এবং শেষ ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হবে ২৭ মে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নির্বাচনের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, রমজানের আগে ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপ এবং ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। রমজানের পরে ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপ, ১৩ মে চতুর্থ ধাপ এবং ২৭ মে পঞ্চম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, যেসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেছে অথবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব পরিষদের মেয়াদ শেষ হবে, সেগুলোর নির্বাচন ২৭ মের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।
তিনি আরও জানান, কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলকে আলাদা গুরুত্ব না দিয়ে দেশের সব জেলায় একযোগে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে জেলার সদর উপজেলাগুলো এবং যেসব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত ১৭ জানুয়ারি নির্ধারিত থাকায় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুরোধ বিবেচনায় নিয়ে প্রথম ধাপের ভোটের তারিখ ২১ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার।
বৈঠকে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, বিস্তারিত বিষয়গুলো একটি কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ দায়িত্ব বণ্টনেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
স্মার্টকার্ড ছাপানোর বিষয়ে তিনি বলেন, পার্সোনালাইজেশন সেন্টারের কার্যক্রম নিয়ে থাকা সমস্যা সমাধানে চুক্তি ও নিরীক্ষা আপত্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় স্মার্টকার্ড ছাপানোর কার্যক্রম চালুর লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে নিরীক্ষা আপত্তিসহ অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতা সমাধানের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের ব্যবহার প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার বলেন, কমিশন আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নির্বাচনে আর ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। তবে এসব যন্ত্র এখনো কমিশনের কাছে রয়েছে এবং সেগুলো নিয়ে বিভিন্ন জটিলতা রয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট কমিটির বক্তব্য শোনার পর যন্ত্রগুলো চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি এবং আগের কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব ইভিএমগুলো নিষ্পত্তি করতে চায় কমিশন। তবে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট আইনি কার্যক্রমের জন্য যেসব প্রমাণ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন, সেগুলো রেখে বাকি যন্ত্রাংশ দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মৃত ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে মৃত ভোটারের নাম বাদ দিতে পরিবারের সদস্য বা পরিচিত কাউকে নির্দিষ্ট ১২ নম্বর ফরম পূরণ করতে হয়। সচেতনতার অভাবসহ বিভিন্ন কারণে অনেক মৃত ব্যক্তির নাম তালিকায় থেকে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, অন্যান্য উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে মৃত ভোটারদের নাম সময়মতো বাদ দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রথমে কয়েকটি উপজেলা ও ইউনিয়নে পরীক্ষামূলকভাবে পদ্ধতিটি চালু করা হবে। এর কার্যকারিতা যাচাই ও পর্যালোচনার পর সারা দেশে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন পদক নীতিমালা ২০২৫ এর একটি খসড়াও উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিশনের সদস্যরা খসড়াটি আরও পর্যালোচনা করে মতামত জানাবেন। নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পর পদক দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গত বছর এই পদক দেওয়া হয়নি এবং চলতি বছরের পদকও এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান নির্বাচন কমিশনার।
নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগেও নানা ধরনের আশঙ্কার কথা শোনা গিয়েছিল। তবে সেই নির্বাচন স্মরণকালের অন্যতম শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে বলে কমিশন মনে করে। ভবিষ্যতেও ভালো নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
সোমবারের বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছাড়াও অন্য চার নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।