তিন দিন ধরে মেয়ে নেই, বাবা-মায়ের উদ্বেগ লক্ষ্য করিনি: রাষ্ট্রপতি
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১১ পিএম
কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাদের প্রতি পরিবারের দায়িত্ববোধ বাড়ানো এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
কুমিল্লার শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি মেয়ে তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পরও তার বাবা মায়ের মধ্যে যে স্বাভাবিক উদ্বেগ থাকার কথা, তা তিনি লক্ষ্য করেননি। তাঁর মতে, এ ঘটনা সমাজের গভীরে থাকা মানসিক সংকট ও দায়িত্বহীনতার চিত্র তুলে ধরে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি ও পরিবর্তন দৃশ্যমান হলেও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো অনেক ঘাটতি রয়েছে। পরিবারের দায়িত্বশীল আচরণ, কন্যাশিশুর নিরাপদ চলাচল এবং বিপদের সময় দ্রুত সহায়তা পাওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
তাজমিন হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি মেয়ে তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পরও তার বাবা মায়ের মধ্যে স্বাভাবিক উদ্বেগ দেখা যায়নি। ঘটনাটিকে শুধু বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে না দেখে সমাজের মানসিকতা ও দায়িত্ববোধের সংকট হিসেবেও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
কন্যাশিশুর নিরাপত্তায় পরিবার ও সমাজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের সজাগ দৃষ্টি ও দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে অবহেলা থাকলে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময় মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের বিদ্যালয়ের বাইরে নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত না হওয়ায় মায়েদের ফুটপাতে কাগজ বিছিয়ে অপেক্ষা করতে হয়। এ পরিস্থিতি মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে সমাজে বিদ্যমান উদ্বেগের প্রতিফলন।
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ এবং যৌন হয়রানির মতো অপরাধ প্রতিরোধে দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার ও আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্য মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে সমাজের সব স্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি জানান, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে। অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি ভুক্তভোগীরা যাতে ন্যায়বিচার পান, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
কন্যাশিশু ও কিশোরীদের শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। এ জন্য প্রতিটি উপজেলায় কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার আহ্বান জানান তিনি।