হাদির লড়াই জিয়াউর রহমানের চেয়েও শক্তিশালী: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে শহীদ ওসমান হাদির সংগ্রাম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লড়াইয়ের চেয়েও বেশি শক্তিশালী ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, শহীদ ওসমান হাদির রাজনৈতিক সংগ্রাম ও তার কবরকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং দলটির শরিকদের একটি অংশের রাজনীতি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে না পারার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার কবর নিয়ে কটাক্ষ করার আগে সংশ্লিষ্টদের নিজেদের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্ব সম্পর্কে ভাবা উচিত।
এনসিপির এই নেতা বলেন, কিছু বিষয়ে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ওসমান হাদির আজাদীর সংগ্রাম ছিল তার রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অন্যতম প্রধান দিক। তার বিবেচনায়, এই প্রশ্নে হাদির লড়াইয়ের দৃঢ়তা ও তীব্রতা জিয়াউর রহমানের সংগ্রামের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী।
তবে একজন শহীদের সংগ্রামকে সম্মান জানাতে গিয়ে অন্য একজন শহীদের স্মৃতিকে অসম্মান করার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজার যথাস্থানে থাকা উচিত। একইভাবে শহীদ ওসমান হাদির কবরও যথাযথ মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে সংরক্ষণ করতে হবে। কোনো শহীদের কবরকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা বিতর্কের হাতিয়ার বানানো উচিত নয়।
অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, হাসিনা সরকারের আমলে কবর, স্মৃতিচিহ্ন ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতীক ভাঙচুরের রাজনীতি দেখা গেছে। সেই রাজনীতির পুনরাবৃত্তি তারা আর চান না। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে যেন নতুন করে আরেকটি অন্যায়ের জন্ম না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এনসিপির এই মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, হাদির রাজনৈতিক আদর্শ, আজাদীর সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ নিয়ে যুক্তিতর্ক হতে পারে। তবে তার কবর নিয়ে কটাক্ষ কিংবা অসম্মান করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পোস্টের শেষাংশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শহীদের কবর নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার, ইতিহাসের মর্যাদা রক্ষা এবং আধিপত্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।