আমরা ভারতবিরোধী না, আধিপত্যবাদ বিরোধী : আসিফ মাহমুদ
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, তারা ভারতবিরোধী নন, বরং আধিপত্যবাদের বিরোধী। বাংলাদেশের স্বার্থের বিপরীতে কোনো দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার বিরোধিতা করেন তারা।
বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আবরার ফাহাদ, দিল্লির আধিপত্যবাদ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ফ্যাসিবাদের আমলে দেখা গেছে, শেখ হাসিনা বলেছিলেন ভারতকে যা দেওয়া হয়েছে, ভারত তা আজীবন মনে রাখবে। তখন বিভিন্ন নীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থের বিপরীতে ভারতের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এ কারণে অনেকে তাদের ভারতবিরোধী বললেও বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তারা ভারতবিরোধী নন, আধিপত্যবাদের বিরোধী।
ভারত নিয়ে বর্তমান সরকারের নীতি এখনো স্পষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের ভূমিকা কী হতে পারে, সেটিও পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে না। তবে আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ বুঝতে হলে আবরার ফাহাদের আটটি স্তম্ভের ধারণাগুলো ভালোভাবে বোঝা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দেশের নীতিগত জায়গা থেকে যতই পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হোক না কেন, বিভিন্নভাবে বাধার মুখে পড়তে হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সময়ে তিনি বিভিন্ন ধরনের বাধার মুখে পড়েছেন বলেও জানান।
৮ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে আসিফ মাহমুদ বলেন, কাঠের অস্ত্রের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাইকোয়ান্দো, কারাতে ও অন্যান্য আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের বাধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি তখন গণমাধ্যমে রক্ষীবাহিনী গঠনের মতো খবরও প্রকাশিত হয়েছিল।
তিনি বলেন, ৮ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার এই উদ্যোগটি কয়েক কোটি টাকার একটি প্রকল্প। দেশের সাতটি বিকেএসপি কেন্দ্রে অনেক জায়গা খালি রয়েছে। সেসব জায়গায় প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তিন বছরে ৮ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়া দেশের মোট তরুণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় খুবই সামান্য। বর্তমানে বাংলাদেশ জনমিতিক সুবিধার সময় পার করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশের রাজনীতিবিদদের একাংশের সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, অনেকে মনে করেন ভারত তাদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি নয়। বরং ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থান রাখলে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন, দলের মধ্যে গুরুত্ব কিংবা মন্ত্রিত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হতে পারে। এ ধরনের ব্যক্তিগত স্বার্থের চিন্তা থেকে অনেকে নৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন এবং পরে একটি নির্দিষ্ট বলয়ের মধ্যে আটকে যান।
সিকিমের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে একজন ভারতপন্থী রাজনীতিবিদের মাধ্যমে প্রথমে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে আইন পাস করা হয়েছিল। পরে ভারত নাকি স্বাধীন থাকার বিষয়ে ভোট হয় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ভারতের সঙ্গে যাওয়ার পক্ষে পড়ে। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, একজন ব্যক্তি, একটি গোষ্ঠী বা একটি রাজনৈতিক দলের নৈতিক অবস্থানের দুর্বলতার মধ্য দিয়ে একটি রাষ্ট্রও পরাজিত হতে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনা নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে আসিফ মাহমুদ বলেন, এ ধরনের চুক্তির ক্ষেত্রে দেখতে হবে বাংলাদেশ কী পাচ্ছে এবং অপর পক্ষ কী পাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রাপ্তি যদি বেশি হয় এবং বড় কোনো ঝুঁকি না থাকে, তাহলে সেটি দেশের জন্য ক্ষতিকর নয়। দুই পক্ষের জন্যই লাভজনক চুক্তি হতে পারে।
ভারতের সঙ্গেও বাংলাদেশের স্বার্থে চুক্তি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানি নিয়ে দীর্ঘদিনের সংকট আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হলে এবং দুই পক্ষের জন্য লাভজনক চুক্তি করা গেলে তাতে সমস্যা নেই।
আসিফ মাহমুদ বলেন, সমস্যা তখনই হয়, যখন বাংলাদেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে অন্য পক্ষকে বেশি সুবিধা দেওয়া হয়। শুধু ভারত নয়, বিশ্বের যেকোনো দেশের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। মুখের কথায় নয়, কাজেও যেন সবার আগে বাংলাদেশ থাকে, সেটিই তাদের অবস্থান।