হেলেদুলে থালা-বাটিতে লাথি দেয় ৩৫ মণের ‘নেইমার’
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
যশোরের অভয়নগর উপজেলায় বিশাল আকৃতির একটি ষাঁড়কে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ব্রাজিলের ফুটবল তারকা নেইমার–এর মতো কোঁকড়ানো চুল থাকায় শখ করে ষাঁড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘নেইমার’। প্রায় ৩৫ মণ ওজনের এই ষাঁড়টির দাম চাওয়া হচ্ছে ১২ লাখ টাকা।
অভয়নগরের ডাঙামশিয়াহাটি গ্রামের খামারি দেবু পাঁড়ে ভালোবাসা ও যত্নে তিন বছরের বেশি সময় ধরে ষাঁড়টিকে লালন-পালন করছেন। বিশাল দেহ, আকর্ষণীয় গঠন আর মাথার সামনের বিশেষ চুলের স্টাইলের কারণে সহজেই সবার নজর কাড়ছে এটি।
স্থানীয়রা জানান, নেইমার স্বভাবগতভাবে শান্ত। তাই বেশিরভাগ সময় তাকে রশিতে বাঁধা হয় না। উঠানে হেলেদুলে হাঁটা, শিং দিয়ে মালিককে আলতো গুঁতা দেওয়া কিংবা খাবারের পাত্রে লাথি মারার মতো নানা ভঙ্গিতে মেতে উঠতে দেখা যায় ষাঁড়টিকে।
প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে শুধু একনজর নেইমারকে দেখতে খামারে ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ ভিডিও ধারণ করছেন।
খামারি দেবু পাঁড়ে জানান, ছোটবেলা থেকেই পশুপালনের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। ২০২২ সালে পারিবারিকভাবে খামার গড়ে তোলেন তিনি। বর্তমানে তার খামারে ছয়টি গরু রয়েছে, যার মধ্যে দুটি ষাঁড়।
তিনি বলেন, প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার টাকার খাবার দিতে হয় নেইমারকে। খাদ্য তালিকায় রয়েছে খৈল, ভুষি, খড়, ভুট্টার গুঁড়া, সবুজ ঘাস ও সামান্য ভাত। এছাড়া দিনে তিনবার গোসলও করানো হয়।
দেবু পাঁড়ে আরও বলেন, সন্তানের মতো করেই ষাঁড়টিকে বড় করেছেন তিনি। অনেকেই দাম জানতে এলেও কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় এখনও বিক্রি করেননি। তবে কোরবানির ঈদের আগেই উপযুক্ত দামে বিক্রি হবে বলে আশা তার।
খামারে গিয়ে দেখা যায়, টিনশেড ঘরের পাশের একটি প্রশস্ত কক্ষে একাই রাখা হয়েছে নেইমারকে। মাঝে মধ্যেই ঘর থেকে বের হয়ে উঠানে হাঁটাহাঁটি করছে এবং সামনে রাখা খাবার খাচ্ছে বিশালাকৃতির ষাঁড়টি।
প্রতিবেশী অমিও ধর বলেন, দেবু অত্যন্ত যত্ন নিয়ে ষাঁড়টিকে বড় করেছেন। এ কারণে গরুটি দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছেন।
দেবুর মা ইতি পাঁড়ে বলেন, নেইমার এখন পরিবারের সদস্যের মতো হয়ে গেছে। বিক্রি করতে হবে ভাবতেই খারাপ লাগছে, তবে আর্থিক প্রয়োজনের কারণেই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
অভয়নগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে ও স্বাভাবিক খাবারে ষাঁড়টিকে বড় করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কোরবানির ঈদে ষাঁড়টির ভালো দাম পাবেন খামারি।