টানা বৃষ্টিতে শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ৭, বন্ধ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৯ এএম
টানা ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় অন্তত সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে। দুর্যোগে দেশটির মধ্যাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ি চা-বাগান অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে প্রবল বৃষ্টিপাতের পর আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস দেখা দেয়। গত বছরের শেষ দিকে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলটি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারেনি। এর মধ্যেই নতুন এই দুর্যোগ জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মুখপাত্র প্রদীপ কোডিপ্পিলি জানিয়েছেন, মধ্যাঞ্চলে ভূমিধসে দুটি বাড়ি মাটিচাপা পড়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বন্যার পানিতে ডুবে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি জানান, দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১২৯টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় তিন হাজার পাঁচশ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বন্যার পানিতে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত দৃশ্যে দেখা গেছে, পানিতে ডুবে যাওয়া সড়ক অতিক্রম করে আটকে পড়া পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
নুওয়ারা এলিয়া ও বাদুল্লাসহ শ্রীলঙ্কার মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বর্ষা মৌসুমে প্রায়ই ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে প্রতি বছরই এসব অঞ্চলের বাসিন্দাদের দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের শেষ দিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে একই এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রায় ৬৪০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই দুর্যোগে বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি দেশজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরও সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
সর্বশেষ দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবে পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা।