দুপুরে বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন ম্যাজিস্ট্রেট, বিকেলে পালাল ১৩ বছরের কিশোরী
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৯ পিএম
খাগড়াছড়ির রামগড়ে ১৩ বছর বয়সী ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিলেন উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। বিয়ের সব আয়োজন শেষ হওয়ার পর বিয়েবাড়িতে গিয়ে কনের বয়স যাচাই করে বিয়ে বন্ধ করা হয়। কনের বাবাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং উভয় পক্ষের অভিভাবকদের কাছ থেকে নেওয়া হয় লিখিত মুচলেকা। এমনকি ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বরযাত্রীদেরও বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে এর কয়েক ঘণ্টা পরই নির্ধারিত পাত্রের সঙ্গে ওই কিশোরী পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
রোববার (৯ আগস্ট) খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের থলিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন পাতাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী নুরুল আলম।
তিনি জানান, কয়েক দিন আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে কিশোরীর বিয়ে বন্ধ করা হয়েছিল, সে ঘটনার দিন বিকেলেই নির্ধারিত পাত্রের সঙ্গে পালিয়ে যায়। অন্য কোথাও না গিয়ে সে ওই পাত্রের বাড়িতেই গেছে বলে জানান তিনি।
চেয়ারম্যান বলেন, বাল্যবিয়ে বন্ধে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের জায়গা থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে এলাকায় এখনো পুরোপুরি সচেতনতা তৈরি হয়নি। জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করতে গিয়ে তাদের সামাজিক বিরোধেরও মুখোমুখি হতে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, থলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মহিন উদ্দিন মানিকের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে ফারহানার সঙ্গে একই উপজেলার বলিপাড়া গ্রামের মো. ইউছুপের ছেলে ২৫ বছর বয়সী সাখাওয়াত হোসেনের বিয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল রোববার। সে অনুযায়ী কনের বাড়িতে বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। যথাসময়ে বরযাত্রীরাও সেখানে উপস্থিত হন এবং তাদের খাওয়া-দাওয়াও শেষ হয়।
এর মধ্যে বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে রামগড় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বীন আল জান্নাত পুলিশ নিয়ে বিয়েবাড়িতে উপস্থিত হন। কনের জন্মনিবন্ধন সনদ যাচাই করে তার বয়স ১৩ বছর নিশ্চিত হওয়ার পর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিয়ের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেন তিনি।
এ সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে না দেওয়া এবং প্রাপ্তবয়স্ক কনে ছাড়া বিয়ে না করার বিষয়ে উভয় পক্ষের অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বরপক্ষকে নিজ বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়।
বাল্যবিয়ে আয়োজনের অপরাধে কনের বাবা মো. মহিন উদ্দিন মানিককে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর ৮ ধারায় ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বীন আল জান্নাত বলেন, কনের জন্মনিবন্ধন সনদ যাচাই করে দেখা গেছে, তার জন্মতারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৩। সে হিসেবে তার বয়স ১৩ বছরের কিছু বেশি। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।
তিনি বলেন, শিশু বয়সে বিয়ে দেওয়া আইনত অপরাধের পাশাপাশি একটি সামাজিক ব্যাধি। বিয়েবাড়িতে উপস্থিত সবাইকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে এবং তারা বিষয়টি বুঝেছেন। তাঁর উপস্থিতিতেই পাত্রপক্ষকে নিজ বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।