দুজনের পক্ষে চারজনকে হত্যা সম্ভব নয়, পেছনে বড় শক্তি থাকতে পারে: মামলার বাদী
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় মামলার বাদী ও নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী দাবি করেছেন, মাত্র দুজনের পক্ষে চারজনকে হত্যা করা সম্ভব নয়। তার ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আরও বড় কোনো শক্তি জড়িত থাকতে পারে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে নগরীর মাছুয়া পাড়ায় নিহতদের বাড়িতে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান শুরুর আগে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন গোপীনাথ চক্রবর্তী।
তিনি বলেন, ‘সন্দেহটা ওই জায়গায় যে দুইটা লোকের পক্ষে এই হত্যাকাণ্ড করা সম্ভব নয়। চারজনকে দুজন মানুষ হত্যা করবে, এরপর তারা সুস্থভাবে থাকবে, ঘুমাবে, বাড়িতে বসে থাকবে এটা কখনোই সম্ভব নয়।’
হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দিয়ে গোপীনাথ চক্রবর্তী বলেন, ‘একজন মানুষ খুন করা চাট্টিখানি কথা নয়। এর পেছনে কোনো বড় শক্তি আছে, অলক্ষ্যে, আড়ালে।’
তদন্ত নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘লোকজন তো বলছে, বিদ্যুৎ আগে বন্ধ করে দিয়েছে। এখন কী হবে, যেটা হবে সেটা তো মেনে নিতে হবে। আমরা তো তদন্ত করার কেউ না। প্রশাসন একটার পর একটা যদি ব্যর্থ হয়ে যায়, তাহলে করার কী আছে?’
তবে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ওপর তার সন্দেহ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে গোপীনাথ বলেন, ‘না, সেটা আমার নেই। কারণ আমি তো কাউকে চিনি না। আমি তো দূরে থাকি। সংঘর্ষ বা কোনো ঝামেলার কথাও শুনিনি। খুব ভালো মানুষ ছিল। মানুষ এত ভালো হয় না।’
মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির উঠানে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ সময় গীতা পাঠ করা হয়। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের পাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় স্বজনদের।
এদিকে নিহতদের স্মরণে রংপুর জিলা স্কুলে প্রার্থনা ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।
স্মরণসভায় নিহত গণপতি চক্রবর্তী ও তার ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর স্মৃতিচারণ করেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। প্রিয়ম চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ সময় হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
রংপুর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমরা গভীরভাবে ব্যথিত। তিনি একজন সজ্জন ও বিনয়ী মানুষ ছিলেন। তার ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী আমাদের বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, গণপতি চক্রবর্তী শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার কাছেই অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য ছিলেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। জেলা প্রশাসন, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে আশা প্রকাশ করে দ্রুত বিচার ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান প্রধান শিক্ষক।