অনলাইন জুয়ার আসরে র্যাবের অভিযান, ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৬
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৩ পিএম
সিলেটের বিয়ানীবাজারে অনলাইন জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে চারখাই ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯। এ সময় অনলাইন জুয়া খেলার কাজে ব্যবহৃত ৬টি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে চারখাই বাজারের একটি রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- চারখাই ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কচকটখা গ্রামের মৃত কুতুব আলীর ছেলে পাভেল আহমদ (২৭), গোলাঘাট গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে দুলাল আহমদ (৩০), পূর্বখলা গ্রামের মৃত খসরু মিয়ার ছেলে জামিল আহমদ (২৪), করগ্রামের মৃত ইলিয়াস আলীর ছেলে সাবু আহমদ (৩২), কচকটখা গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে জাবের আহমদ (২৯) এবং লাংলাকোনা গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে মো. জসিম আহমদ (৩১)।
র্যাব-৯ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত আনুমানিক ৯টা ৩৫ মিনিটে চারখাই বাজারের ওই রেস্তোরাঁয় অনলাইন জুয়ার আসরে অভিযান চালানো হয়। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে আটক করা সম্ভব হয়। পরে তাদের কাছ থেকে ৬টি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
র্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন নিষিদ্ধ ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলো পরীক্ষা করেও অনলাইন জুয়া খেলার বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
পরে গ্রেপ্তার ৬ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জব্দ করা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য আলামতসহ তাদের বিয়ানীবাজার থানায় হস্তান্তর করে র্যাব-৯।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জাফর মো. মাহফুজুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, র্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া অনলাইন জুয়াড়িদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে গ্রেপ্তার পাভেল আহমদ চারখাই ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায় বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনামুল হক এনাম।
তিনি বলেন, ছাত্রদল কোনো ধরনের অন্যায়, অনৈতিক বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না। মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংগঠন তার দায় নেবে না। পাভেল আহমদের বিরুদ্ধে দলের গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।