কবর থেকে পীর শামীমের দেহাবশেষ তুলে দরবারে নিয়ে গেল ভক্তরা

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত পীর শামীম জাহাঙ্গীরের দেহাবশেষ কবর থেকে তুলে তার দরবারে নিয়ে পুনরায় দাফনের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতের কোনো একসময় ফিলিপনগর এলাকার পশ্চিম-দক্ষিণ গোরস্থানে থাকা তার কবর থেকে দেহাবশেষ তুলে দরবার প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ।

ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে পীর শামীম জাহাঙ্গীরের দেহাবশেষ ফিলিপনগর এলাকার পশ্চিম-দক্ষিণ গোরস্থানের কবর থেকে তুলে তার দরবার প্রাঙ্গণে নিয়ে সমাধিস্থ করা হয়েছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও উত্তেজনা দেখা দেয়।

নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ফজলুর রহমান জানান, খবর পেয়ে স্থানীয় কবরস্থানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তার ভাইয়ের কবর খোঁড়া হয়েছে। কে বা কারা তার ভাইয়ের দেহাবশেষ নিয়ে গেছে। পরে দরবারে গিয়ে তিনি দেখতে পান সেখানে নতুন একটি কবর খোঁড়া হয়েছে এবং তার ওপর কাঠাবাঁশ দিয়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থলে দেখা যায়। পরিস্থিতি যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনায় রূপ না নেয়, সে জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পীর শামীমের ভক্তরা রাতে কবর থেকে দেহাবশেষ তুলে এনে আস্তানা প্রাঙ্গণে সমাধিস্থ করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সল মাহমুদ জানান, পীর শামীম জাহাঙ্গীরের দেহাবশেষ রাতের আঁধারে গোরস্থান থেকে তুলে তার আস্তানায় নিয়ে পুনরায় দাফনের চেষ্টা করা হয়েছিল। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহাবশেষটি হেফাজতে নেয়।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ জানান, পীর শামীম জাহাঙ্গীরের বড় ভাই ফজলুর রহমানের কাছ থেকে খবর পেয়ে স্থানীয় গোরস্থানে গিয়ে দেহাবশেষ তোলার আলামত পাওয়া যায়। পরে দরবারে গিয়ে দেহাবশেষের কিছু অংশ পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তার দেহাবশেষ সেখান থেকে নিয়ে পুনরায় স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করা হবে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং কাউকে আটকও করা হয়নি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে ইসলাম ধর্ম বিকৃতির অভিযোগ তুলে শামীম জাহাঙ্গীর নামের ওই পীরের আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী। এ সময় পীর শামীম জাহাঙ্গীর ও তার অনুসারীদের মারধর করা হয়।

পরে আহত অবস্থায় পীর শামীমকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন বিকেল ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

পরদিন ১২ এপ্রিল দুপুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফিলিপনগর এলাকার পশ্চিম-দক্ষিণ কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এরপর ১৩ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970