লক্ষ্মীপুরে মাদকাসক্ত যুবকের আগুনে পুড়ল ১১ ঘর, ৬ দোকান
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মাদকাসক্ত এক যুবকের দেওয়া আগুনে পুড়ে গেছে ১১টি বসতঘর ও ৬টি দোকান। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ১৭টি পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। রোববার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার বাসাবাড়ি বাজারসংলগ্ন করিম বক্স বেপারী বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই বাড়ির রফিক উল্যার ছেলে সোহেল পেট্রোল ঢেলে প্রথমে নিজের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ রূপ নিয়ে আশপাশের বসতঘর ও দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন সোহেলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সোহেল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মাদকের প্রভাবে তার উন্মত্ত কর্মকাণ্ডের কারণেই এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে দাবি তাদের।
ক্ষতিগ্রস্ত জাবের ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক জানান, আগুনে তার দোকানের বিপুল পরিমাণ মূল্যবান মালামাল পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে দোকানের পেছনে থাকা বসতঘরটিও পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়েছে। তার দাবি, পেছনের ঘরে থাকা সোহেলই ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়েছেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। রায়পুর ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে তারা অগ্নিকাণ্ডের খবর পান। স্থানীয়দের কাছে ফায়ার সার্ভিসের সরাসরি নম্বর না থাকায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি জানানো হয়। পরে রায়পুরের ২টি ও লক্ষ্মীপুর সদরের ১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনাটি শুধু একটি অগ্নিকাণ্ড নয়, মাদকের ভয়াবহ সামাজিক প্রভাবেরও একটি উদাহরণ। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে মুহূর্তের মধ্যে ১৭টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি ও দোকানের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। স্বজন ও ক্ষতিগ্রস্তদের আহাজারিতে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয়হীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন ভূঁইয়া এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।