বিকাশে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ভৈরব থানার ওসির বিরুদ্ধে, লেনদেনের স্ক্রিনশট ফাঁস
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জমি দখলকে কেন্দ্র করে দোকানপাট ও বাড়িতে ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনায় প্রতিপক্ষের কাছ থেকে এই টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। কথিত লেনদেনের একটি স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৩ অক্টোবর শনিবার বেলা ১১টার দিকে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভৈরব পৌর শহরের কমলপুর এলাকায় মনির কন্ট্রাক্টরের বাড়ি ও দোকানপাট দখলের উদ্দেশ্যে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ ওঠে মুর্শেদ মিয়ার লোকজনের বিরুদ্ধে।
খবর পেয়ে ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ ও হাবিবুর রহমানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় যোগাযোগ করা হয়। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও রাস্তার এক পাশে দাঁড়িয়ে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, পুলিশ যাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলায় বাধা না দেয়, সে উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ মুর্শেদ মিয়ার পক্ষ থেকে ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে ওই দিন বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে মুর্শেদ মিয়ার ব্যবহৃত একটি মোবাইল নম্বর থেকে ওসি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা পাঠানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশটে কথিত লেনদেনের পরিচিতি হিসেবে ডিজে৩২সিপিবি৪০কিউ উল্লেখ রয়েছে। তবে এই স্ক্রিনশটের সত্যতা এবং অর্থ লেনদেনের প্রকৃত উদ্দেশ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মিয়া জানান, হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় সর্বস্ব হারানোর পর তারা থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রায় এক সপ্তাহ থানায় ঘুরেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বিচার চেয়ে কিশোরগঞ্জ আদালতে মামলা করতে বাধ্য হন তারা।
তবে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ওই নম্বরে তার বিকাশ হিসাব খোলা থাকলেও কোনো লেনদেন করা হয়নি। গত ৩ অক্টোবর তার নম্বরে কে বা কারা টাকা পাঠিয়েছে, তা তিনি এখনো দেখেননি। তার বিরুদ্ধে আনা ঘুষের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ জানান, বিকাশে টাকা লেনদেনের বিষয়টি তারা শুনেছেন। নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিকাশের কল সেন্টার থেকে আনুষ্ঠানিক বিবরণী সংগ্রহ করে বিষয়টি যাচাইবাছাই করা হবে।
তিনি আরও জানান, তদন্তে ওসির নম্বরে ঘুষের টাকা লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।