মাদরাসা শিক্ষককে থাপ্পড়, যা বললেন শিক্ষার্থীর বাবা
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম
টঙ্গীতে ছয় বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক মাদরাসাশিক্ষককে মারধরের ঘটনার দুই দিন পর নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। তার দাবি, মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছে, তা জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক তার কাছে নিজের দোষ স্বীকার করেন। এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি শিক্ষককে মারধর করেন। পরে স্থানীয় কয়েকজনও মারধরে যোগ দেন বলে জানান তিনি।
শাহজালাল রুমি জানান, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে জানতে তিনি মাদরাসার অধ্যক্ষের কক্ষের বাইরে প্রায় ১৫ মিনিট অপেক্ষা করেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষক সেখানে এলে তিনি সরাসরি জানতে চান, আসলে কী ঘটেছে। তখন ওই শিক্ষক তার মেয়েকে জোরাজুরি করা ও চুমু দেওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি করেন তিনি।
শিশুটির বাবা বলেন, মেয়ের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে জানতে পেরে একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষকের কাছ থেকে বিষয়টি শোনার পরই তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মারধর করেন।
মামলা ও অর্থ লুটের অভিযোগ অস্বীকার
ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শাহজালাল রুমি। তার দাবি, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদরাসা থেকে অর্থ লুট ও ভাঙচুরের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি।
অর্থ লুটের অভিযোগ প্রসঙ্গে শাহজালাল রুমি বলেন, ১৭ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে তা মাদরাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখানো উচিত। তার দাবি, তিনি ওই পরিমাণ অর্থ নিয়ে যাননি।
মাদরাসায় ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, সেখানে গিয়ে একটি কাচে হাত রাখার পর সেটি ভেঙে যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কাচটির পুরুত্ব সম্ভবত তিন মিলিমিটার ছিল।
তবে অর্থ লুট ও ভাঙচুরের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন।
ঘটনার আগে বাসায় যাওয়ার দাবি
শাহজালাল রুমির আরও দাবি, শিক্ষককে মারধরের ঘটনার দুই দিন আগে অভিযুক্ত শিক্ষক বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে তার বাসায় গিয়েছিলেন। এ সময় হোয়াটসঅ্যাপে শিশুটির মাকে বার্তা পাঠিয়ে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন ওই শিক্ষক বলে জানান তিনি।
রুমির ভাষ্য অনুযায়ী, বার্তায় শিক্ষক জানান, তিনি শিশুটির মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চান এবং বাসার সামনে অবস্থান করছেন। পরে রাস্তায় শিশুটির নানার সঙ্গে দেখা হলে ওই শিক্ষক আর কখনো এমন কাজ করবেন না বলেও জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসব বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ যাচাই করা জরুরি।
সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিশুটির বাবা।
শিশুটির সঙ্গে ঘটে যাওয়া অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি মাদরাসা থেকে অর্থ লুট ও ভাঙচুরের অভিযোগও যথাযথভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ যাচাইয়ের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে বলে প্রত্যাশা তার।