বিয়ের ২০ দিনের মাথায় ‘মামার’ সঙ্গে উধাও বিএনপি নেতার স্ত্রী
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম
জামালপুরের মেলান্দহে বিয়ের মাত্র ২০ দিনের মাথায় স্বামীর বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা সুজনের স্ত্রী সুমি আক্তারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুমির কথিত মামা এমদাদুল হক অরচন মিয়াকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রতারণা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোররাতে জামালপুর পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে অরচন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকা থেকে সুমি আক্তারকেও গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিন বিকেলে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার এমদাদুল হক অরচন মিয়া মেলান্দহ উপজেলার শাহজাদপুর এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে। তিনি সুমি আক্তারের কথিত মামা হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে সুমি উপজেলার কামদেববাড়ী এলাকার শাহিন মন্ডলের মেয়ে। মামলার অভিযোগকারী সুজন দক্ষিণ ঝাউগড়া এলাকার মৃত ময়ুর আলীর ছেলে। তিনি ঝাউগড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর সুমি আক্তারের সঙ্গে রেজিস্ট্রি কাবিনের মাধ্যমে সুজনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় স্ত্রীকে দুটি স্বর্ণের আংটি, একটি চেইন, এক জোড়া বালা ও এক জোড়া কানের দুলসহ বিভিন্ন স্বর্ণালংকার উপহার দেন সুজন। এজাহারে এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
সুজনের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সুমির কথিত মামা অরচন মিয়া তাকে বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করে আসছিলেন। গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুজন বাড়িতে না থাকার সুযোগে অরচন তাদের বাড়িতে যান। এ সময় তিনি সুমিকে বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলেন। তবে সুজনের মা ছেলের বাড়ি ফেরার পর সুমিকে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু সেই কথায় কর্ণপাত না করে সুমি অরচনের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেছেন সুজন।
এজাহারে আরও বলা হয়, ওই রাতে স্ত্রীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে সেটি বন্ধ পান সুজন। পরদিন ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও ভাতিজাকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়েও সুমির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অরচনের সঙ্গে সুমি চলে গেছেন বলে জানতে পারেন তিনি।
এ ঘটনায় পরে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন সুজন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে প্রথমে অরচন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুমি আক্তারকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে নিজের কষ্টের কথা জানাতে গিয়ে সুজন বলেন, বিয়ের মাত্র ২০ দিনের মাথায় স্ত্রী তার সঙ্গে এমন আচরণ করবেন, তা তিনি কল্পনাও করেননি। অনেক আশা নিয়ে স্ত্রীকে ঘরে এনেছিলেন। বিয়ের সময় তাকে স্বর্ণালংকারও দিয়েছিলেন। এত অল্প সময়ের মধ্যে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায় তিনি ভেঙে পড়েছেন বলে জানান।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এমদাদুল হক অরচন মিয়া ও সুমি আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।