প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে বিশ্বকাপ মিশন শুরু যুক্তরাষ্ট্রের
খেলাধুলা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ অভিযান দুর্দান্তভাবে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘ডি’-এর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্টে উড়ন্ত সূচনা করেছে সহ-স্বাগতিকরা।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মাউরিসিও পচেত্তিনোর দল। ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে গড়ে তোলা আক্রমণে ওয়েস্টন ম্যাককেনির কাটব্যাক ঠেকাতে গিয়ে ভুলবশত নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার দামিয়ান বোবাদিয়া। এর মধ্য দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম আত্মঘাতী গোলের রেকর্ডও গড়ে ওঠে।
প্রথম গোলের পরও চাপ ধরে রাখে স্বাগতিকরা। ২৮ মিনিটে ফোলারিন বালোগান বল জালে জড়ালেও আক্রমণের শুরুতে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক অফসাইডে থাকায় ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় গোলটি বাতিল করা হয়।
তবে মাত্র তিন মিনিট পরই হতাশা কাটিয়ে ওঠেন বালোগান। বাম দিক থেকে পুলিসিকের নিখুঁত পাস প্রথম স্পর্শেই জালে পাঠিয়ে দলের ব্যবধান ২-০ করেন তিনি। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে মালিক টিলম্যানের বাড়ানো থ্রু-পাস কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন এই ফরোয়ার্ড। ফলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় যুক্তরাষ্ট্র।
বিরতির পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে প্যারাগুয়ে। ৫০ মিনিটে মিগুয়েল আলমিরনকে ফাউলের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক টিম রিমকে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত বদলান রেফারি। দেখা যায়, কোনো সংস্পর্শ ছাড়াই পড়ে গিয়েছিলেন আলমিরন। ফলে রিমের কার্ড বাতিল করে অভিনয়ের দায়ে আলমিরনকেই হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
৭৩ মিনিটে ব্যবধান কমাতে সক্ষম হয় প্যারাগুয়ে। গোলরক্ষকের লম্বা বল থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে আলমিরনের পাস পেয়ে এনসিসো বল বাড়িয়ে দেন বদলি খেলোয়াড় মাউরিসিওর কাছে। তিনি নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে দলকে কিছুটা আশা এনে দেন।
তবে শেষ পর্যন্ত সেই আশা টেকেনি। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে ফ্রিম্যানের পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে চমৎকার বাঁকানো শটে গোল করেন জিওভানি রেইনা। তার নান্দনিক ফিনিশিংয়ে ৪-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে যুক্তরাষ্ট্র।
ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে মাউরিসিও পচেত্তিনোর দল। এই জয়ের মাধ্যমে গ্রুপ পর্বে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবেই নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে তারা।