যুক্তরাষ্ট্রের ‘ধমকে’ থামলো ইসরায়েল, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:৪৯ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের কড়া বার্তার পর অবশেষে লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ। শুক্রবার (১৯ জুন) থেকে দুই পক্ষের মধ্যে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স, মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত ইরান-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের বিষয়ে ইসরায়েল সরকারকে কঠোর বার্তা দেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তিনি ইসরায়েলকে স্মরণ করিয়ে দেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী মিত্র বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এই অবস্থানের পরই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল।
লেবাননের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা। তিনি জানান, দিনের শুরুতে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চললেও পরে তারা যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় এবং ইরানের সহায়তায় এই সমঝোতা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত লেবাননে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতভর চালানো ওই হামলার পর শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। এতে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়েও নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। এটিকে চলমান সংঘাতের অন্যতম ভয়াবহ হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে ইসরায়েলের চার সেনা নিহত হওয়ার তথ্যও প্রকাশ পেয়েছে।
হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর কোনো আলোচনা চালানো সম্ভব নয় বলে ইরান স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে। যদিও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বৈঠক নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি, তবে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেছেন। একই সঙ্গে তেহরান নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।
এদিকে সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক মাউন্টেন রিসোর্টে অনুষ্ঠেয় উচ্চপর্যায়ের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে ভবিষ্যৎ আলোচনার প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে তারা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন ইস্যুতে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা। ১৪ দফার প্রস্তাবিত চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, পুনর্গঠনের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেছেন, বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তিতে তিনি অনুমোদন দিয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাড়তি চাপ প্রয়োগের কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হতে পারে জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, এর অর্থ এই নয় যে ইরান শত্রুপক্ষের অবস্থান মেনে নিচ্ছে।