ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ফেসবুক পেজে জুয়ার বিজ্ঞাপন, হ্যাকের দাবি
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:৫২ পিএম
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে অনলাইন জুয়ার একাধিক বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে ধারাবাহিকভাবে এসব পোস্ট প্রকাশের পর সেগুলো মুছে ফেলা হলেও কিছু সময় পর আবারও নতুন বিজ্ঞাপন পোস্ট করা হয়। এ ঘটনায় নিজের ফেসবুক পেজ হ্যাক হওয়ার দাবি করেছেন প্রতিমন্ত্রী।
জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে প্রথমে পরপর চারটি জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রতিমন্ত্রীর ভেরিফায়েড পেজে প্রকাশিত হয়। পরে সেগুলো সরিয়ে ফেলা হলেও সন্ধ্যা ৬টা ৩৭ মিনিটে আরও তিনটি বিজ্ঞাপন পোস্ট করা হয়। এসব পোস্টে ইংরেজি ও তুর্কি ভাষার বর্ণমালায় জুয়ার বিভিন্ন প্রচারণা চালানো হয়। পরবর্তীতে পেজটি ডিঅ্যাক্টিভেট করা হয়।
বাংলাদেশের সাইবার সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের ২০ ধারায় বলা হয়েছে, সাইবার স্পেসে জুয়া–সংক্রান্ত পোর্টাল, অ্যাপ বা ডিভাইস তৈরি, পরিচালনা, জুয়ায় অংশগ্রহণ, সহায়তা, উৎসাহ প্রদান কিংবা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রচার করা আইনত নিষিদ্ধ। এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
ঘটনার পর প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে আমিনুল হকের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। এ সময় আইডি থেকে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পোস্টে বিশ্বাস না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ডের দায় আমিনুল হকের নয়; বরং এটি তার বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। বর্তমানে আইডি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং সফল হলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হবে।
এদিকে, কীভাবে পেজটি হ্যাক হয়েছে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি আমিনুল হক। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, পেজ উদ্ধারের কাজ চলছে এবং তার ধারণা, সংঘবদ্ধ একটি চক্র তার ও সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করছে।