গভীর রাতে রাবি শিক্ষার্থীর মশারির ওপরে বিষধর কালাচ সাপ, অতঃপর...

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের একটি কক্ষে আবাসিক শিক্ষার্থীর মশারির ওপর থেকে বিষধর কালাচ সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠে মশারির ওপর সাপটি দেখতে পান ওই শিক্ষার্থী। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপ উদ্ধারকারী সংস্থা ‘সোয়ান’কে খবর দেওয়া হলে তারা এসে সাপটি উদ্ধার করে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত আড়াইটার দিকে হলের ১২১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী রাব্বি রেজা গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠে মশারির ওপর একটি সাপ দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি রুমমেটদের জানালে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপ উদ্ধারকারী সংস্থা ‘সোয়ান’কে খবর দেন। খবর পেয়ে সংস্থাটির সদস্যরা এসে সাপটি উদ্ধার করেন। পরে সাপটি বিষধর কালাচ বলে নিশ্চিত করা হয়।

একই কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী সাকিল আহমেদ বলেন, ঘুম থেকে উঠে মশারির ওপর বিষধর সাপটি দেখতে পাওয়া যায়। পরে ‘সোয়ান’কে খবর দিলে তারা এসে সাপটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

হলে সাপের উপদ্রব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, হলের প্রাধ্যক্ষকে বিষয়টি অনেকবার জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি। হলের চারপাশ জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। কয়েক দিন পরপরই সাপ বের হয়। ফলে সবসময় সতর্ক থাকতে হয়, হলে সাপ ঢুকেছে কি না। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সাকিল আহমেদ আরও বলেন, ‘কাল রাতে যদি সাপটি কামড় দিত এবং একজন ছাত্রের মৃত্যু হতো, সেই দায় কি হল প্রাধ্যক্ষ নিতেন?’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মো. আল-আমিন সরকার বলেন, শুক্রবার রাতে এক শিক্ষার্থী ঘুম থেকে উঠে মশারির ওপর একটি সাপ দেখতে পান। পরে তিনি রুমমেটকে জানালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ধারকারী দলকে খবর দেওয়া হয়। উদ্ধারকারী দল এসে সাপটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাপের উপদ্রব ঠেকাতে এর আগেও কার্বোলিক অ্যাসিড ব্যবহার করা হয়েছে এবং হলের চারপাশ পরিষ্কার করা হয়েছে। গত সপ্তাহেও প্রশাসনের উদ্যোগে হলের পেছনের অংশ পরিষ্কার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, পেছনের দিক দিয়ে সাপটি হলে প্রবেশ করেছে।

আল-আমিন সরকার বলেন, হলের পেছনে ভালো মানের নেট লাগানো এবং ড্রেনগুলো পুনরায় পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, ভারতীয় উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশের অন্যতম বিষধর সাপ কালাচ। ফণাহীন এই সাপ দেখতে শান্ত স্বভাবের হলেও এটি নিশাচর। দিনের বেলা ঝোপঝাড়, ইঁদুরের গর্ত, পুরোনো বাড়ির ভাঙাচোরা দেয়াল কিংবা ঘরের কোণে লুকিয়ে থাকে। রাতে খাবারের সন্ধানে বের হয়ে অনেক সময় ঘুমন্ত মানুষকে কামড় দেয়।

তিনি বলেন, কালাচের কামড়ে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয় না এবং আক্রান্ত স্থান ফুলেও যায় না। ফলে ঘুমন্ত ব্যক্তি অনেক সময় বুঝতেই পারেন না যে তিনি সাপের দংশনের শিকার হয়েছেন।

জোহরা মিলা আরও জানান, কালাচের বিষ অত্যন্ত শক্তিশালী নিউরোটক্সিন। কামড়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পেটব্যথা, বমি, চোখ বন্ধ হয়ে আসা ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। দ্রুত সঠিক চিকিৎসা না করালে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর আশঙ্কা অনেক বেশি। তাই রাতে এমন কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

কালাচের কবল থেকে বাঁচতে কয়েকটি পরামর্শও দিয়েছেন এই বন্যপ্রাণী গবেষক। তিনি বলেন, সাপটির সামনে পড়লে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। লাঠি দিয়ে আশপাশে শব্দ করলে সাপটি দূরে সরে যেতে পারে। কালাচ থাকতে পারে এমন স্থান, যেমন ঝোপঝাড়, পুরোনো ভবনের ফাটল এবং দীর্ঘদিন পড়ে থাকা ইট-পাথরে হাত না দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এ ছাড়া সাপের উপদ্রব রয়েছে এমন এলাকায় অন্ধকারে চলাচল না করা, সঙ্গে টর্চ রাখা এবং ঘুমানোর আগে বিছানার চারপাশে ভালোভাবে মশারি গুঁজে ঘুমানোর পরামর্শ দিয়েছেন জোহরা মিলা।

সাপটি না মারার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, কালাচ ইঁদুর ও বিভিন্ন পোকামাকড় খেয়ে মানুষের উপকার করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ অনুযায়ী কালাচ সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী। তাই এটি হত্যা করা বা এর কোনো ক্ষতি করা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970