বাবা ও প্রেমিকের সহায়তায় পর্নোগ্রাফি তৈরি করতেন সুমাইয়া
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও তৈরি, প্রচার এবং বিক্রির অভিযোগে রাজধানী থেকে সুমাইয়া সাঈদ নামে ২৫ বছর বয়সী এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় তার প্রধান সহযোগী ও কথিত প্রেমিক খাজা সাকলাইন ফারুককেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, মেয়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানার পরও তাতে সম্মতি দেওয়া এবং ওই কার্যক্রম থেকে উপার্জিত অর্থ গ্রহণের অভিযোগে সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদকেও মামলার আসামি করা হয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট সাইবার নজরদারির সময় সুমাইয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন হিসাবে অশ্লীল উপকরণ এবং সেগুলো বিক্রির বিজ্ঞাপন নজরে আসে। অভিযোগ রয়েছে, মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে এসব ছবি ও ভিডিও বিক্রি করা হতো। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে আজীবন ব্যবহারের সুবিধা দেওয়ার বিজ্ঞাপনও ছিল।
পরে প্রযুক্তিগত সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে ১১ আগস্ট রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। সেখান থেকে সুমাইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে তার কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরে সুমাইয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বাড্ডা এলাকার একটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে খাজা সাকলাইন ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে সুমাইয়া কথিত এই চক্র পরিচালনা করতেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, মেয়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানার পরও তার বাবা এতে বাধা দেননি। বরং ওই কর্মকাণ্ড থেকে পাওয়া অর্থ তিনি গ্রহণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় রমনা মডেল থানায় ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্ত এগিয়ে নিতে এবং পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের জন্য গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের তিন দিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ।