রিজার্ভ থেকে আরও ১০ কোটি ডলার বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৩ এএম
বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়িয়ে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে আরও ১০ কোটি ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (৪ নভেম্বর) নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে এসব ডলার বিক্রি করা হয়। প্রতি ডলার ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সা দরে বিক্রি করা হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে নিলামের মাধ্যমে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দীর্ঘ বিরতির পর সেটিই ছিল এ ধরনের প্রথম নিলাম। সব মিলিয়ে দুই দফায় রিজার্ভ থেকে ২২ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বুধবারের নিলামে প্রতিটি ব্যাংককে একক প্রস্তাবে সর্বনিম্ন ৫ লাখ ডলার কেনার আবেদন করতে বলা হয়। এর আগে মঙ্গলবারও ১০ কোটি ডলার বিক্রির জন্য নিলাম ডাকা হয়েছিল। তবে কয়েকটি ব্যাংক অংশ নেওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে নিলামটি বাতিল করা হয়। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বাজারে ডলারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির কারণে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে তা কমে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।
পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ড. আহসান এইচ মনসুর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি না করার নীতি গ্রহণ করেন। বর্তমান গভর্নরও একই নীতি অব্যাহত রাখেন। এতে ধীরে ধীরে রিজার্ভ বাড়তে থাকে। গত ২৯ জুন রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। এরপর ১ সেপ্টেম্বর তা সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তবে পরবর্তী সময়ে রিজার্ভ কমে মঙ্গলবার ৩৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও ডলারের দাম কমেছে। বাংলাদেশেও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।