ই টিন থাকলেই কি ৫ হাজার টাকা জরিমানা, যা বলছে আয়কর আইন

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ই টিন আছে, কিন্তু আয়কর রিটার্ন জমা দেননি, এমন করদাতাদের ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন তথ্য। এ নিয়ে অনেকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে শুধু ই টিন থাকলেই সবার ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয় না। আয়কর রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে জরিমানার পরিমাণ নির্ধারিত হয় সংশ্লিষ্ট আইন ও করদাতার পরিস্থিতি বিবেচনায়।

আয়কর আইন, ২০২৩ এর ২৬৬ ধারা অনুযায়ী, যেসব করদাতার আগে কখনো আয় নিরূপণ করা হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। অন্যদিকে, আগে আয় নিরূপণ হয়ে থাকলে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর প্রদেয় করের ৫০ শতাংশ অথবা ১ হাজার টাকা, এই দুই অঙ্কের মধ্যে যেটি বেশি, সেই অনুযায়ী জরিমানা নির্ধারণের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া ন্যূনতম ১ হাজার টাকা জরিমানা এবং রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৫০ টাকা জরিমানার বিধানও রয়েছে।

২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে করমুক্ত আয়ের সীমা কত

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, নতুন আয়কর কাঠামোয় বিভিন্ন শ্রেণির করদাতার জন্য আলাদা করমুক্ত আয়ের সীমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সাধারণ পুরুষ করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকা। নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই সীমা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের করদাতাদের জন্য সীমা ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাইযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত কর কাঠামোর তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ করদাতাদের প্রথম ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত থাকবে। পরবর্তী ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ, এর পরবর্তী ৪ লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার ওপর ২০ শতাংশ এবং পরবর্তী ২০ লাখ টাকার ওপর ২৫ শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য হবে। অবশিষ্ট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ করের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রদত্ত তথ্যে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ ও ২০২৬ অর্থবছরে সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোয় তা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। তবে এসব সীমা ও করহারের চূড়ান্ত প্রযোজ্যতা নিশ্চিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সরকারি প্রজ্ঞাপন ও নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন।

কারা রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানার মুখে পড়তে পারেন

শুধু ই টিন থাকাই আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা নির্ধারণের একমাত্র শর্ত নয়। বার্ষিক আয়, পেশা, আর্থিক কার্যক্রম এবং নির্দিষ্ট সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে রিটার্ন জমার প্রমাণপত্রের প্রয়োজনীয়তার ওপরও বিষয়টি নির্ভর করে।

সাধারণত যাদের বার্ষিক আয় নির্ধারিত করমুক্ত সীমা অতিক্রম করে, তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হয়। এ ছাড়া ফার্মের অংশীদার, কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক, শেয়ারহোল্ডার কর্মচারী এবং আইন অনুযায়ী নির্ধারিত বিভিন্ন শ্রেণির ব্যক্তির জন্য রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হতে পারে।

ব্যাংকঋণ বা ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ, জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনসহ নির্দিষ্ট কিছু সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে। ফলে নিজের ক্ষেত্রে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক কি না, তা সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধান অনুযায়ী যাচাই করা জরুরি।

আয় নেই, তবু ই টিন রয়েছে, কী করবেন

অনেকে চাকরি, ব্যবসা কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে ই টিন নিয়েছেন। পরে আয় বন্ধ হয়ে গেছে অথবা আয় করযোগ্য সীমার নিচে নেমে এসেছে। তবে আয় না থাকলেই কিংবা কর দিতে না হলেই আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা শেষ হয়ে যায় না।

এ ক্ষেত্রে প্রথমে যাচাই করতে হবে, আইন অনুযায়ী নিজের রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক কি না। প্রয়োজন হলে প্রযোজ্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে টিআইএন বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর অফিসে আবেদন করা যেতে পারে। তবে আবেদন করলেই টিআইএন বাতিল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন।

নিজের বকেয়া রিটার্ন বা করসংক্রান্ত অবস্থা জানতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ই রিটার্ন পোর্টালে প্রবেশ করে তথ্য যাচাই করা যেতে পারে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল অফিসের পরামর্শ নেওয়াও ভালো।

আতঙ্কিত হওয়ার আগে যা যাচাই করবেন

ই টিন রয়েছে, কিন্তু আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া হয়নি, এমন পরিস্থিতিতে সবার জন্য একই অঙ্কের জরিমানা প্রযোজ্য নয়। রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক কি না, আগে আয় নিরূপণ করা হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট করদাতার ক্ষেত্রে আইনের কোন বিধান প্রযোজ্য, এসব বিষয় জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য দেখে আতঙ্কিত না হয়ে নিজের করসংক্রান্ত অবস্থা যাচাই করা উচিত। তবে আইন অনুযায়ী রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হলে তা উপেক্ষা না করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই ভালো।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970