ভারতে স্বাধীনতা দিবসে কংগ্রেস নেতাকে ছেলেসহ কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় স্বাধীনতা দিবসের রাতে কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান ও তার ছেলে আবু সুফিয়ান রহমানকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে বাড়ি ফেরার পথে তাদের গাড়ির গতিরোধ করে প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা এবং পরে ১৫ থেকে ১৬ রাউন্ড গুলি চালানো হয়।
রোববার (১৬ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
নিহত আনিসুর রহমান নদীয়া জেলা কংগ্রেসের সহসভাপতি ছিলেন। তার ছেলে আবু সুফিয়ান রহমান সম্প্রতি লন্ডনের একটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা ও সাবেক রেলমন্ত্রী অধীর রঞ্জন চৌধুরী। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শনিবার নদীয়া জেলার বেথুয়াডহরি বাজারে জাতীয় কংগ্রেসের কার্যালয়ে ছিলেন আনিসুর রহমান। রাতে দলীয় কার্যালয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থানের পর ছেলে আবু সুফিয়ানকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি।
পথে নাগাদি রেলগেটের আন্ডারপাসের কাছে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাদের গাড়ির গতিরোধ করে। এরপর বাবা ও ছেলেকে গাড়ি থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাদের লক্ষ্য করে কয়েক দফা গুলি ছোড়া হয়।
হামলার পর মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে ছুটে এসে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় আনিসুর রহমান ও আবু সুফিয়ানকে বেথুয়াডহরি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর তৃণমূল কংগ্রেসের হরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ফতেমা বিবিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ, নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় কংগ্রেসের নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্মমভাবে দলের নেতা আনিসুর রহমান ও তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তার ছেলে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে লন্ডনে পড়াশোনার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং চলতি মাসেই লন্ডনের একটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল।
অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, বাবার সঙ্গে ছেলেকেও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রত্যেককে ১৫ থেকে ১৬ রাউন্ড গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।