মক্কা চুক্তির পর প্রথম বৈঠকে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৫ এএম

ছবি: সংগৃহীত

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানকে নিয়ে গঠিত নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সোমবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বৈঠকে বসবেন তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধানরা।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, চলতি আগস্টে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির’ আওতায় এটিই জোটের প্রথম বৈঠক। চুক্তির অধীনে গঠিত প্রথম কমিটির বৈঠকে অংশ নিতে তিন দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইস্তাম্বুলে একত্রিত হবেন।

গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে সুন্নি মুসলিম ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন কাঠামোর আওতায় এসেছে। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ ও আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই চুক্তি করা হয়।

চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা। এতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে বাকি দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বিষয়টি পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ৫ম অনুচ্ছেদের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে অনেকটা সাদৃশ্যপূর্ণ।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলের বৈঠকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি তিন দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উৎপাদন ও প্রযুক্তি উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় আসতে পারে।

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেই নতুন এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করছে তিন দেশ। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় তাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পরও পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা কার্যকর সমাধানে পৌঁছায়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের ওপর সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ জোরদার করেছে। মার্কিন প্রশাসন এসব পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

তুরস্ক জানিয়েছে, ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি হিসেবে পরিচিত দেশটির সঙ্গে পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান ও বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরবের এই প্রতিরক্ষা জোট ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।

সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে মিসরের নামও বিবেচনা করছে আঙ্কারা। তবে তুরস্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন এই প্রতিরক্ষা চুক্তি বিদ্যমান কোনো সামরিক জোটের বিকল্প হিসেবে গঠন করা হয়নি।

সূত্র: রয়টার্স, এএফপি।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970