পুলিশি বাধায় বাতিল আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে দিল্লির সেমিনার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
ভারতের নয়াদিল্লিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে আয়োজিত একটি সেমিনার শেষ মুহূর্তে পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় বাতিল করা হয়েছে। সেমিনারটির আয়োজন করেছিল ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব।
শনিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব জানায়, দিল্লি পুলিশ শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সেমিনারটি বাতিল করতে হয়েছে।
এর আগে সেমিনার আয়োজনের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দিয়েছিল আয়োজকরা। সেখানে সেমিনারের বিষয়বস্তু ও সম্ভাব্য বক্তাদের নাম উল্লেখ করে একটি লিফলেটও প্রকাশ করা হয়।
সেমিনারে বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক সেলিম মাহমুদের। এছাড়া মানবাধিকারকর্মী, গবেষক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রিসহ আরও কয়েকজনের বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল।
ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ নন্দ বলেন, পুলিশ তাদের শুধু জানিয়েছে যে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের অনুমতি নেই। তবে কী কারণে অনুমতি দেওয়া হয়নি বা কেন অনুষ্ঠানটি বন্ধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
এ বিষয়ে দিল্লি পুলিশের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কোনো অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা থাকলে পুলিশ যেকোনো সময় তা বাতিল করার অধিকার রাখে।
সেমিনার বাতিলের বিষয়ে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে চলতি মাসের ৫ তারিখেও দিল্লিতে একটি সেমিনারের আয়োজন করেছিল ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব। ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিয়েছিলেন। তার বক্তব্যের পর ঢাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং এ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনও দেখা দেয়।
দিল্লিতে বিবিসির সংবাদদাতার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ আগস্টের অভিজ্ঞতার পর দিল্লি আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রকাশ্য কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ দিতে চাইছে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের কয়েকজন সাবেক কূটনীতিকও প্রায় একই ধরনের মত দিয়েছেন। তাদের মতে, শেখ হাসিনার ওই বক্তব্যের পর ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে। ফলে একই ধরনের আরেকটি অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ দিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আগ্রহী ছিল না।