এবার আমেরিকায় আকস্মিক বন্যা, নিখোঁজ ২০ জনের বেশি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৪ এএম
আমেরিকার অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যায় ২০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (২৯ আগস্ট) ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম রেঞ্চ এলাকায় এই বন্যার সৃষ্টি হয়। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন পার্কের রেঞ্জার ও উদ্ধারকর্মীরা।
ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের অবস্থান এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে দ্রুত পার্ক কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
অ্যারিজোনা ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটির সঙ্গে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্কের কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া ব্যক্তিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা খালি করার কাজও চলছে। এখন পর্যন্ত ৬২ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার বিকেলে কলোরাডো নদীর তীরে অবস্থিত ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম রেঞ্চ এলাকায় হঠাৎ বন্যার পানি প্রবল স্রোতে নেমে আসে। পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হলেও গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের এই অভ্যন্তরীণ অংশ অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় উদ্ধারকাজে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
প্রবল পানির স্রোতে পার্কের ট্রেইল অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের ওপর থাকা প্রায় সব পায়ে হাঁটার সেতু ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে ওই জলধারা পার হয়ে হাইকারদের চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় ফ্যান্টম রেঞ্চ, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ড ও পুরো নর্থ কাইবাব ট্রেইল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে পার্ক সার্ভিস। কটনউড ক্যাম্পগ্রাউন্ড ও ফ্যান্টম রেঞ্চ এলাকা থেকেও আরও মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বন্যার সময় সেখানে থাকা এক হাইকার ডেভিড গ্রেগরি জানান, তিনি একটি ছোট দলের সঙ্গে হাইকিংয়ে গিয়েছিলেন। হঠাৎ বন্যা শুরু হওয়ায় তাদের পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়। দ্রুত ধ্বংসাবশেষসহ পানির প্রবল স্রোত এগিয়ে আসতে দেখেছেন বলে জানান তিনি।
পরে ডেভিড গ্রেগরি ও তার দলের সদস্যদের হেলিকপ্টারে করে একটি স্কুলে নেওয়া হয়। সেখান থেকে রাতে তাদের একটি হোটেলে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এদিকে কলোরাডো নদীর ওপর থাকা ব্ল্যাক ব্রিজ ও সিলভার ব্রিজও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। নদীতে সব ধরনের নৌযান চলাচলও বন্ধ করা হয়েছে। বন্যার পানিতে ধাতব কাঠামো ও বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ নদীতে ভেসে আসায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত ওই এলাকায় আরও বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এতে নতুন করে ধ্বংসাবশেষের স্রোত ও পাহাড়ি পাথর ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।