কারাগারে ইমরানকে ধীরে ধীরে শেষ করে দেওয়ার শঙ্কা ছেলের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০২ পিএম
লন্ডনের লর্ডস ক্রিকেট মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের টেস্ট চলাকালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে অপ্রত্যাশিত উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্কাই স্পোর্টসে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল অ্যাথারটনের নেওয়া সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম খান বাবার কারাবাসের পরিস্থিতি এবং স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে সেটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি এবং তা না হলে মাঠে না নামার হুমকির কথা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইমরান খানের দুই ছেলে।
কাসিম খান দাবি করেন, ‘ওরা স্পষ্টতই বাবাকে ওখানে কারাগারে মেরে ফেলতে চাইছে। ওরা যতটা সম্ভব গোপনে তাকে চুপ করিয়ে দিতে চায় এবং ধীরে ধীরে তাকে অস্তিত্বহীন করে দিতে চায়।’
ইমরান খান পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হওয়ায় বিষয়টি গোপন রাখা সহজ নয় বলেও মন্তব্য করেন কাসিম। তিনি বলেন, ‘যখনই পরিবার কথা বলে, কর্তৃপক্ষ সবকিছু শান্ত হয়ে যাওয়ার অপেক্ষা করে। এরপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ চাপায়, যা বাবার বেঁচে থাকাকে আরও কঠিন করে তোলে।’
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিক্রিয়াকে নিজেদেরই বোকা বানানো বলে মন্তব্য করেন কাসিম। অন্যদিকে সুলাইমান খান জানান, তিনি কিছু প্রতিক্রিয়া আশা করেছিলেন, তবে পাকিস্তান দলের মাঠে না নামার হুমকির মতো অবিবেচক পদক্ষেপ আশা করেননি।
সুলাইমান বলেন, ‘একজন সাবেক পাকিস্তানি খেলোয়াড় এবং ইংল্যান্ডে দীর্ঘদিন বসবাসকারী ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে সাক্ষাৎকার সরিয়ে ফেলার দাবি পিসিবির কাজের মধ্যে পড়ে না। এটা রাজনীতি নয়, মানবিক বিষয়।’
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বারবার দাবি করে আসছে, ইমরান খানের সঙ্গে কোনো ধরনের খারাপ ব্যবহার করা হচ্ছে না এবং তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন। তবে এসব আশ্বাস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সুলাইমান।
তিনি বলেন, ‘পরিবারকে বাবার অবস্থা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষ ধীরে ধীরে স্বাস্থ্য খারাপের খবর ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং সাহায্যের ভান করছে, যাতে পরে কিছু ঘটলে বুড়ো মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যু বলে দায় এড়ানো যায়।’
সুলাইমান আরও বলেন, ‘শেষ যাচাইযোগ্য তথ্য ছয় মাস আগে বাবার কাছ থেকেই এসেছিল। তখন তিনি চোখের সমস্যা এবং তার অবহেলার কথা জানিয়েছিলেন। স্বচ্ছতা না থাকায় এবং পরিবারকে প্রবেশাধিকার না দেওয়ায় এসব দাবি বিশ্বাস করা কঠিন।’
ইমরান খানের কারাবাসের পরিস্থিতি নিয়ে তার পরিবারের এমন বক্তব্যের পর পাকিস্তানের ক্রিকেট ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহসিন নকভির ওপরও সমালোচনা বাড়ছে।
ইমরান খানের পরিবার দাবি করছে, একাকী কারাবাসের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে এবং পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ তাকে নীরব করে দেওয়ার চেষ্টা করছে।