সংঘাত-প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসার মাধ্যমে সমাজ গড়তে চাই: রাষ্ট্রপতি
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৪ এএম
ঠাকুরগাঁওয়ে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংঘাত, সংঘর্ষ ও প্রতিশোধের রাজনীতি নয়; ভালোবাসার মাধ্যমে একটি সত্যিকার অর্থে সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে চান তারা।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলায় এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তপাতের পর দেশ নতুন করে পথচলার সুযোগ পেয়েছে। এখন প্রধান দায়িত্ব হলো গণতন্ত্রকে রক্ষা করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করা। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবেই, তবে সংঘাত-সংঘর্ষে না জড়িয়ে পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা করতে হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের আঞ্চলিক ভাষায় উপস্থিত জনতার সঙ্গে কথা বলার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘মুই জানু তোমরা মোক ভালবাসেন। সুতরাং যতক্ষণ কাঁতা কহিম, তোমরা শুনিবেন। ঠিক না?’ এ সময় উপস্থিত জনতা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ বলে সাড়া দেন। পরে তিনি আবার বলেন, ‘ক্যাঙ্গাতি আছেন তোমরা বারে? ভালো আছেন তো?’
এলাকার সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাষ্ট্রপতি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে ঘোষিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হবে। আগামীকালই ইনশাআল্লাহ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ নির্মাণ, আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন এবং শিবগঞ্জ বিমানবন্দর পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।
স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান বাড়াতে ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। যুবসমাজকে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধু চাকরি কিংবা ঠিকাদারির ওপর নির্ভর না করে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে হবে।
দেশের রাজনীতিতে সহিষ্ণুতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সহিষ্ণুতা। বিভেদ ভুলে সবাই যেন একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিজ নিজ অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
বক্তব্যের শেষভাগে নিজের শৈশব ও জন্মভূমির স্মৃতি স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পংক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক।’ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্রপতি মঞ্চে উপস্থিত মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট নাগরিক, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কৃষক-শ্রমিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান।
এ সময় হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ স্থানীয় রাজবংশী ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের প্রতিও শুভেচ্ছা জানান তিনি। পাশাপাশি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অকুতোভয়ে পাশে থাকার জন্য নিজের সহধর্মিণীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।