দফায় দফায় হামলা, ধ্বংসস্তূপ থেকে যেভাবে বেঁচে ফিরলেন মোজতবা খামেনি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩০ পিএম
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় গুরুতর আহত হন তার ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। পরে তাকে তেহরানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও হামলার শিকার হন মোজতবা খামেনি। ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সদস্য মহসেন হায়দারির দাবি, তাকে যে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল, সেটিতেও হামলা চালানো হয়। পরে হাসপাতালের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল আরাবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হায়দারি জানান, মোজতবা খামেনি আহত হওয়ার পর তেহরানের তিনটি হাসপাতালে ধারাবাহিকভাবে বোমা হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে তৃতীয় হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন মোজতবা। হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
যেভাবে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন
মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন হায়দারি। তার দাবি, গত ৮ মার্চ নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলার সময় কোম শহরের বিশেষজ্ঞ পরিষদের কার্যালয়ে বোমা হামলা চালানো হয়। এতে আটজন নিহত হন এবং নির্বাচনের নথিপত্রও ধ্বংস হয়ে যায় বলে তিনি জানান।
এরপর সদস্যরা একটি গোপন কক্ষে কাগজের ব্যালটে ভোট দেন। হায়দারির ভাষ্য অনুযায়ী, ৫৯টি ভোটের মধ্যে মোজতবা খামেনি ৫০টি ভোট পান। আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি পান আটটি ভোট এবং একজন সদস্য ভোটদানে বিরত থাকেন।
হায়দারি বলেন, শত্রুদের অবস্থান বিবেচনা করে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ছাড়া অন্য কাউকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হবে না।
ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ ৮ মার্চ মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করার পর ৯ মার্চ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
মোজতবা খামেনি কোথায়
সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পরও মোজতবা খামেনিকে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তিনি লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি বাবার জানাজাতেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এদিকে মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে বিভিন্ন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি নতুন সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আন্তরিক পরিবেশে বৈঠক করেছেন।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, মোজতবা খামেনি মারা যাননি, তবে গুরুতর আহত হয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, তার শরীরের বাঁ পাশ, হাত ও পা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।