ভারত ও নেপালে আবারও ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস, নিহত ৬৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশ ও প্রতিবেশী নেপালে আবারও ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দুই দেশে নতুন করে সৃষ্ট দুর্যোগে অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের উত্তর প্রদেশে মারা গেছেন ৫৬ জন এবং নেপালে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১২ জন। নেপালে এখনো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।

উত্তর প্রদেশের ত্রাণ কমিশনার হৃষিকেশ ভাস্কর যশোদ রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর জানান, শুক্রবার থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত রাজ্যটিতে ৬৬ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অথচ এই সময়ে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার।

কমিশনারের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টির কারণে ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৪৬ জন। প্রবল বৃষ্টিতে এক হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি নিম্নচাপ স্থলভাগে উঠে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এর প্রভাবে উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত বেড়ে যায় এবং সৃষ্টি হয় বন্যা ও ভূমিধসের পরিস্থিতি।

ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে প্রায়ই ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড় দেখা যায়। রাজ্যটির জনসংখ্যা ২৪ কোটিরও বেশি।

এদিকে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় ওডিশা রাজ্যেও ভারী বৃষ্টির কারণে নদ নদীর পানি বেড়ে নিচু এলাকার ৭০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বৃষ্টিতে বেশ কয়েকটি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতির কারণে রাজ্যের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র দেবকুণ্ডও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশন জানিয়েছে, দেশটির সাতটি রাজ্যের ৩০টি নদী পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বর্তমানে তীব্র ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গঙ্গা, গণ্ডক, কোসি, বাগমতী ও নর্মদাসহ কয়েকটি প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অন্যদিকে আগস্টের শেষ দিকে ভয়াবহ বন্যায় এক হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং বহু মানুষ নিখোঁজ হওয়ার পর নেপালে আবারও বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে নতুন করে শুরু হওয়া দুর্যোগে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এখনো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপালের ৭৭টি জেলার মধ্যে ৪৯টিতে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রধান নদী ও শাখা নদীগুলোর পানি বাড়তে থাকায় দেশটির অর্ধেকের বেশি জেলায় বন্যা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ভারী বৃষ্টির কারণে মানাং, মুস্তাং, মিয়াগদি ও বাগলুং জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।

জ্বালানি, পানি সম্পদ ও সেচ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, রাহুগঙ্গা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র শান্তি মাহাত বলেন, গত মাসের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া ও নুয়াকোট এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে হবে। তবে বর্তমানে এলাকাগুলোকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

সূত্র: আলজাজিরা

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970