জরুরি অবস্থা জারির পর খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সেনা নামাচ্ছে পাকিস্তান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের শাসিত প্রদেশ খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। রোববার (১১ অক্টোবর) জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর প্রদেশটিতে সেনা মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রদেশটির সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সোয়াইব আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় সরকার ইতোমধ্যে প্রদেশটিতে সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। জরুরি অবস্থা জারির পাশাপাশি সেখানে গভর্নর শাসন চালু করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির সংবিধানের ২৪৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জরুরি অবস্থা ও গভর্নর শাসন যত দিন বহাল থাকবে, তত দিন প্রদেশটিতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ইমরান খানকে মুক্ত করার দাবিতে গত ৫ অক্টোবর থেকে রাজধানী ইসলামাবাদের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ। দলটির নেতাকর্মীরা খাইবার পাখতুনখাওয়ায় অবস্থান করছিলেন। তাঁদের ইসলামাবাদে প্রবেশের আশঙ্কায় এরই মধ্যে রাজধানীতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এ সিদ্ধান্তের পক্ষে সন্ত্রাসবাদ দমনে ব্যর্থতার বিষয়টি তুলে ধরেছে পাকিস্তান সরকার।
কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদ এবং সরকারি স্থাপনা রক্ষায় সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। অন্যদিকে, সদ্য দায়িত্ব নেওয়া গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রদেশটিতে কতসংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হবে, তা নির্ধারণ করবেন।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম পাকিস্তান অবজারভার জানিয়েছে, গভর্নরের বাসভবনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রদেশটির গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র: পাকিস্তান অবজারভার