প্রতিদিন ৫ হাজার সিঁড়ি বেয়ে উঠে নামাজ পড়ান সিগবাতুল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২১ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার সিঁড়ি পেরিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক মসজিদে পৌঁছান ইমাম সিগবাতুল্লাহ বিলমেজ। তুরস্কের পূর্বাঞ্চলের ভান প্রদেশে প্রাচীন ভান দুর্গের চূড়ায় অবস্থিত সুলেমান হান মসজিদে নামাজ পড়ানোই তার দায়িত্ব। দুর্গম ও চড়াই পথ পাড়ি দিয়ে মসজিদে পৌঁছানোর পর নামাজ পরিচালনার পাশাপাশি দেশি বিদেশি পর্যটকদেরও স্বাগত জানান তিনি।

তুরস্কের দৈনিক ডেইলি সাবাহ এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত পাঁচ মাস ধরে ঐতিহাসিক সুলেমান হান মসজিদে ভারপ্রাপ্ত ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সিগবাতুল্লাহ বিলমেজ। প্রতিদিন আতাতুর্ক কালচারাল পার্ক থেকে যাত্রা শুরু করে প্রায় ৫ হাজার সিঁড়ি পেরিয়ে ভান দুর্গের পাথুরে চূড়ায় পৌঁছান তিনি।

কষ্টসাধ্য এই যাত্রা সত্ত্বেও দায়িত্ব পালনে কোনো অনীহা নেই বিলমেজের। নিয়মিত আজান দেওয়া, জামাতে নামাজ পড়ানো এবং দর্শনার্থীদের কাছে মসজিদ ও অঞ্চলের ইতিহাস তুলে ধরেন তিনি। নিজের পছন্দে নেওয়া এই দায়িত্ব আনন্দের সঙ্গেই পালন করছেন বলে জানিয়েছেন এই ইমাম।

মসজিদটির নির্মাণকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, ১৫৩৪ সালে উসমানীয় সুলতান প্রথম সুলেমান মসজিদটি সংস্কার করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর তিন বছর আগে মসজিদটি আবার সংস্কার করা হয় এবং ইবাদতের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

তুরস্কের ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তর এবং স্থানীয় মুফতি কার্যালয়ের অধীনে পাঁচ বছর বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের পর বর্তমান দায়িত্ব পান বিলমেজ। প্রতিদিনের এই যাত্রা সম্পর্কে তিনি বলেন, পথটি বেশ ক্লান্তিকর হলেও কাজটি তিনি আনন্দের সঙ্গে করেন। কারণ, নিজের ইচ্ছাতেই তিনি এই দায়িত্ব বেছে নিয়েছেন।

বিলমেজ জানান, সাধারণত জোহরের নামাজের আগেই তিনি মসজিদে পৌঁছে যান। এরপর মাগরিবের নামাজের পর পাহাড়ি পথ বেয়ে নিচে নেমে আসেন। মসজিদটি জাদুঘর অধিদপ্তরের অধিভুক্ত হওয়ায় এখানে ফজর ও এশার নামাজের নিয়মিত জামাত অনুষ্ঠিত হয় না।

ভান দুর্গ দেখতে আসা পর্যটকদের কাছেও মসজিদটি বেশ আকর্ষণীয়। দর্শনার্থীদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি তাদের কাছে মসজিদের ইতিহাস, উরার্টীয় দুর্গ এবং পুরোনো ভান অঞ্চলের ঐতিহাসিক তথ্য তুলে ধরেন বিলমেজ।

তিনি বলেন, দর্শনার্থীরা শুধু দুর্গ দেখতে আসেন না, সুলতান সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্টের সঙ্গে জড়িত ঐতিহাসিক সুলেমান হান মসজিদ দেখতেও আগ্রহী হন।

এই দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিজের ইংরেজি ভাষার দক্ষতাও বেড়েছে বলে জানান বিলমেজ। এর ফলে বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং মসজিদ, উরার্টীয় দুর্গ ও পুরোনো ভানের ইতিহাস ব্যাখ্যা করা তার জন্য আরও সহজ হয়েছে।

এ ছাড়া পর্যটকদের সঙ্গে ইসলাম ধর্ম নিয়ে প্রশ্নোত্তরমূলক আলোচনায় অংশ নেন তিনি। বিলমেজের মতে, এ ধরনের আলোচনা উভয় পক্ষের জন্যই ফলপ্রসূ। এতে পর্যটকেরা ইসলাম সম্পর্কে জানার সুযোগ পান, পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়াও বাড়ে।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিলমেজ বলেন, পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখলে তার সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। এমন সুন্দর পরিবেশে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়ে তিনি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, মানুষের দোয়া পাওয়া এবং তাদের মুখে আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন, এমন কথা শোনা তার কাছে অত্যন্ত সম্মানের।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970