লবণ চাষিদের জন্য শিগগিরই নতুন দাম ঘোষণা করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
লবণ চাষিদের কষ্ট লাঘব ও তাদের উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে শিগগিরই লবণের নতুন দাম ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু কৃষকদের নয়, লবণ চাষিদেরও কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হবে। তাদের দুর্ভোগ কমাতে সরকার আলোচনা করে লবণের একটি নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই সেই মূল্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, নির্ধারিত নতুন মূল্য লবণ চাষিদের স্বাবলম্বী হতে এবং অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছলতা অর্জনে সহায়তা করবে। এর ফলে আগের মতো লবণ উৎপাদন করে লোকসান ও নানা ধরনের সংকটে পড়তে হবে না তাদের।
অনুষ্ঠানে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় কল-কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমুদ্র দেশের মানুষের বড় সম্পদ। সমুদ্রসংলগ্ন এলাকায় শিল্প-কারখানা গড়ে তুলে স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এর মাধ্যমে বেকারত্ব কমানোর পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
দেশের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকাকে সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চলমান সমস্যা সমাধানে কিছুটা সময় প্রয়োজন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত স্বৈরাচার আমলে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত গুটিকয়েক ব্যক্তির স্বার্থে পরিচালিত হয়েছে। তাদের সুবিধা নিশ্চিত করতে এমন কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, যা দেশের জনগণের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে নতুন করে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ১০ বছরে দেশের জ্বালানি চাহিদা ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে একটি পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপনের পর তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।
জ্বালানি খাত নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি গুটিকয়েক ব্যক্তি এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন। বিএনপি সরকার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সংসদের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরবে। কারও বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে সেটিও জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। তবে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কিংবা মানুষের শান্তি নষ্ট করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, যারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বিভ্রান্তি ছড়ানো ব্যক্তিরা যাতে কোনো সুযোগ নিতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে ঝগড়া-ফ্যাসাদ চলবে, নাকি দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া হবে সে সিদ্ধান্ত দেশের জনগণকেই নিতে হবে। এখন আর পেছনে পড়ে থাকার সুযোগ নেই। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করাই এখন মূল লক্ষ্য। জনগণ বিভ্রান্ত না হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এটাই প্রত্যাশা।